এক ধাক্কায় প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে প্রাক্তন বিধায়কদের পেনশন! রাজ্য সরকারের মেগা পদক্ষেপে বড় স্বস্তি পেলেন রাজনীতিকরা

দীর্ঘদিনের টানাপড়েন ও অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এক ধাক্কায় প্রায় দ্বিগুণ হতে চলেছে রাজ্যের প্রাক্তন বিধায়কদের পেনশন। পরিষদীয় দফতরের তরফে এ সংক্রান্ত একটি নতুন প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য রাজ্য অর্থ দফতরে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, নতুন পেনশন কাঠামোয় প্রাক্তন জনপ্রতিনিধিদের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করার কথা মাথায় রেখেই এই বড়সড় বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

নতুন প্রস্তাবিত কাঠামোর বিশেষ দিকগুলি:

  • পেনশনের পরিমাণ: নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, রাজ্যের প্রাক্তন বিধায়কদের ন্যূনতম পেনশন হতে চলেছে ১২ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার টাকা

  • হিসাবের পদ্ধতি: এই পেনশন ও অন্যান্য অবসরকালীন ভাতার সম্পূর্ণ হিসেব নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রাক্তন বিধায়ক তাঁর রাজনৈতিক জীবনে ঠিক কতবার নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধানসভায় প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তার ওপর।

কেন এই পরিবর্তনের দাবি উঠেছিল? এর আগে বিধানসভার নৌসর আলি কক্ষে প্রাক্তন বিধায়কদের কল্যাণ সমিতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বর্তমান ভাতার পরিমাণ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছিল। সমিতির প্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন যে, এতদিন রাজ্যে পেনশন ও চিকিৎসা ভাতা মিলিয়ে প্রাক্তন জনপ্রতিনিধিরা মাত্র ১৮ হাজার টাকা করে পেয়ে আসছিলেন। অথচ দেশের অন্যান্য বহু রাজ্যেই এই ভাতার পরিমাণ মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার কাছাকাছি। বর্তমান লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির বাজারে পুরনো সেই ভাতার পরিমাণ যে অত্যন্ত অপ্রতুল এবং জীবনধারণের পক্ষে কঠিন, তা বারবার তুলে ধরেছিল সংগঠনটি।

এমনকি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর সঙ্গে দেখা করে প্রাক্তন বিধায়কদের এই মানবিক ও আর্থিক সংকটের দিকটি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। অবশেষে রাজ্য সরকারের এই নীতিগত পদক্ষেপে প্রাক্তন জনপ্রতিনিধিদের দীর্ঘদিনের সেই প্রাণের দাবিই পূরণ হতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Samrat Das
  • Samrat Das

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *