“সিঙ্গুরের টাটা পড়ানো হয়, ক্ষুদিরাম নয়!” পাঠ্যক্রম বদল ও মোহবনী নিয়ে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর প্রয়াণদিবসে মঙ্গলবার কেশপুরের মোহবনীতে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তব্য রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন কেশপুর যাওয়ার পথে কপ্টার বিভ্রাটের জেরে কিছু সমস্যা তৈরি হলেও শেষমেশ সড়ক পথেই মোহবনী পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে পৌঁছেই কেশপুর এবং বীর বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর স্মৃতিবিজড়িত এলাকা নিয়ে একাধিক মাস্টারপ্ল্যানের কথা ঘোষণা করেন তিনি।

ইতিহাস বিকৃতি ও পাঠ্যক্রম নিয়ে তোপ

নিজেকে এলাকার ‘ভূমিপুত্র’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এখানে আমাকে অনেক কাজ করতে হবে। কারণ ৩৪ বছর কমিউনিস্ট ও পরের ১৫ বছর তৃণমূলের রাজত্বে না দেওয়া হয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রাপ্য সম্মান, না তুলে ধরেছে রাষ্ট্রবাদের অতীত ইতিহাস। আমরা পাঠ্যপুস্তকে সিঙ্গুরে টাটাকে তাড়ানোর কথা পড়ি। কিন্তু বীর বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু বা মাতঙ্গিনী হাজরার কথা সেভাবে আমরা সিলেবাসে পাই না। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁদের কথা তুলে ধরতে পারিনি।”

তিনি আরও বলেন, “কেন ক্ষুদিরাম বসুকে ১১ অগাস্ট প্রাণ দিতে হয়েছিল, কেন এক হাতে জাতীয় পতাকা ও অন্য হাতে শঙ্খ নিয়ে মাতঙ্গিনী হাজরাকে দেহ রাখতে হয়েছিল, তা আজ কেউ জানে না।”

অমিত শাহের ফোন এবং মোহবনীর মেগা ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান

মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী জানান, কিছুদিন আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁকে ফোন করে ক্ষুদিরাম বসুর ভগ্নপ্রায় পৈতৃক ভিটেবাড়ি সংস্কারের বিষয়ে খোঁজ নেন। অমিত শাহ তাঁকে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দেন।

এরপরেই মোহবনীর উন্নয়নে বড় ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী মোহবনী ডেভেলপমেন্ট অথরিটির হাতে প্রাথমিক ভাবে ৫ কোটি টাকা তুলে দেওয়ার কথা জানান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান,

  • ক্ষুদিরাম বসুর পৈতৃক ভিটে সংস্কার করা হবে।

  • এলাকায় একটি আধুনিক গ্যালারি, মিউজিয়াম এবং একটি লেজার শো-এর ব্যবস্থা করা হবে।

  • পর্যটক ও বাইরের অতিথিদের থাকার জন্য একটি উন্নত আবাস তৈরি করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই কাজের জন্য অর্থের কোনও অভাব হতে দেওয়া হবে না। প্রাথমিক ভাবে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও, কাজের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও তহবিল দেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *