বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ৯০ বছরের বৃদ্ধের সঙ্গে জঘন্য প্রতারণা! ৩ বছর ধরে ব্ল্যাকমেল করে লুঠ ৯ লক্ষ টাকা

বয়সের ভারে ন্যুব্জ ৯০ বছরের এক বৃদ্ধকে টার্গেট করে ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইলিং ও ভয়াবহ সাইবার প্রতারণার এক লজ্জাজনক ঘটনা সামনে এল রাজস্থানের রাজধানী জয়পুর থেকে। বিয়ের ব্যবস্থা করার প্রলোভন দেখিয়ে প্রবীণ এই মানুষটিকে প্রথমে জালে টানে সাইবার অপরাধীরা। এরপর মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং সমাজে মানহানির ভয় দেখিয়ে দফায় দফায় তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৯ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ তিন বছর ধরে চলা এই ভয়াবহ মানসিক অত্যাচারের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
যেভাবে শুরু হয়েছিল প্রতারণার জাল
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজস্থানের জয়পুরের মহেশ নগর এলাকার বাসিন্দা ৭৯ বছর এক ব্যক্তি তাঁর ৯০ বছর বয়সী বাবার সঙ্গে ঘটা এই প্রতারণার বিষয়ে থানায় একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেছেন। মামলার তদন্তকারী আধিকারিক এএসআই কৈলাশ চন্দ জানান, ২০২২ সাল থেকেই এই ব্ল্যাকমেইলিংয়ের খেলা শুরু হয়েছিল।
‘শাদি সেন্টার ডট কম’ নামক একটি ভুয়া বিবাহ সংস্থার ছদ্মবেশে কিছু অজ্ঞাতপরিচয় সাইবার অপরাধী ওই বৃদ্ধের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করে। প্রথমে অত্যন্ত মিষ্টি কথায় এবং সুসম্পর্ক তৈরির ছলে বৃদ্ধের বিশ্বাস অর্জন করে ওই প্রতারকরা।
মানহানির ভয় দেখিয়ে ৩ বছর ধরে চলে লুণ্ঠন
প্রথমে সাধারণ কথোপকথন চললেও কিছুদিন পরই প্রতারকরা তাদের আসল এবং ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। ধূর্ত ওই ঠগবাজরা বৃদ্ধকে হুমকি দিতে শুরু করে যে, অবিলম্বে টাকা না দিলে তাঁকে একটি মনগড়া মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে এবং আত্মীয়-স্বজন ও সমাজের চোখে তাঁকে চরম হেয় প্রতিপন্ন করা হবে।
সামাজিক মানহানি এবং আইনি জাঁতাকলে পড়ার ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ৯০ বছরের ওই বৃদ্ধ। পরিবারের কাউকেই বিষয়টি জানাতে সাহস পাননি তিনি। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা যে যে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিত, বৃদ্ধ ভয়ে সেই অ্যাকাউন্টগুলিতেই কিস্তিতে টাকা পাঠাতে শুরু করেন। এভাবেই দীর্ঘ তিন বছরে প্রতারকদের পকেটে চলে যায় প্রায় ৯ লক্ষ টাকা।
কীভাবে ফাঁস হলো এই লজ্জাজনক ঘটনা?
এই বিশাল অঙ্কের আর্থিক জালিয়াতির ঘটনাটি অবশেষে প্রকাশ্যে আসে যখন পরিবারের জরুরি প্রয়োজনে বৃদ্ধের ছেলের টাকার প্রয়োজন হয়। ছেলেটি যখন তাঁর বাবার কাছে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাসবুক ও হিসাব দেখতে চায়, তখন বৃদ্ধ বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ছেলের মনে সন্দেহ জাগায় সে অত্যন্ত স্নেহের সঙ্গে বাব আর কাছে কারণ জানতে চায়।
এরপর আর চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি ৯০ বছরের বৃদ্ধ। কাঁদতে কাঁদতে তিনি সমস্ত ঘটনা খুলে বলেন ছেলেকে। এরপর পরিবারের লোকজন যখন ওই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও পাসবুকের স্টেটমেন্ট হাতে পান, তখন তাঁদের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যায়। তাঁরা দেখতে পান, গত কয়েক বছরে বিভিন্ন কিস্তিতে প্রায় ৯ লক্ষ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে ব্ল্যাকমেলারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলিতে।
পুলিশের তদন্ত শুরু
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ভুক্তভোগীর পরিবার সঙ্গে সঙ্গেই মহেশ নগর থানায় হাজির হন এবং পুরো বিষয়টি বিস্তারিত জানান। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং সাইবার ব্ল্যাকমেইলিংয়ের একাধিক গুরুতর ধারায় একটি মামলা রুজু করেছে।
বর্তমানে পুলিশ ও সাইবার সেল যৌথভাবে ওই ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলির তথ্য, মোবাইল নম্বর এবং যে সমস্ত ইউপিআই (UPI) বা ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে টাকা স্থানান্তর করা হয়েছিল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে। সাইবার সেলের সাহায্য নিয়ে অপরাধীদের আসল অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত তাদের পাকড়াও করার চেষ্টা চালাচ্ছে তদন্তকারী অফিসাররা।