প্রথমবার সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে শুরু দেশজুড়ে জনগণনা ২০২৭! কোন কোন তথ্য দিতে হবে আপনাকে?

দেশজুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত জনগণনা ২০২৭ (Census 2027)। ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যের পাশাপাশি বাংলাতেও শুরু হয়ে গিয়েছে এই আদমশুমারির কাজ। এই গণনার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজ্য তথা দেশের প্রতিটি পরিবার ও নাগরিকের আর্থ-সামাজিক অবস্থার এক বিস্তারিত ও নির্ভুল চিত্র উঠে আসে। ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল এবং সেন্সাস কমিশনারের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ভারতীয় ইতিহাসে এই প্রথমবার সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে এবং বিশেষ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দুটি ভিন্ন পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করে দেশের সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে।

জনগণনা থেকে কী কী তথ্য পাওয়া যাবে?
জনগণনার মাধ্যমে দেশের সার্বিক পরিকাঠামো এবং নাগরিকদের তথ্য জানার এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিকে মূলত দুটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে:

প্রথম পর্যায়: দেশে বসবাসকারী প্রতিটি পরিবারের জীবনযাত্রার মান এবং পরিকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার বিশদ বিবরণ জানা।

দ্বিতীয় পর্যায়: দেশে বসবাসকারী প্রতিটি ব্যক্তির ব্যক্তিগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান ডিজিটাল পদ্ধতিতে নথিভুক্ত করা।

প্রথম পর্যায়: আবাসন, পরিকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা
জনগণনার প্রথম পর্যায়ে মোট ৩৩টি প্রশ্নের মাধ্যমে মূলত ঘরবাড়ি, মৌলিক সুবিধে, রান্নার ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল বা অন্যান্য সম্পত্তির হিসাব নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—

আবাসন আর পরিকাঠামো: বাড়ির দেওয়াল, ছাদ ও মেঝে তৈরিতে কী ধরনের উপাদান (যেমন: কংক্রিট, কাঠ, খড়, টিন ইত্যাদি) ব্যবহার করা হয়েছে। বাড়িটির বর্তমান অবস্থা ভালো না জরাজীর্ণ এবং বাড়িটি নিজস্ব নাকি ভাড়ার, তা নথিভুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবারে বসবাসকারী মোট সদস্য সংখ্যা এবং বিবাহিত দম্পতির সংখ্যাও এর অন্তর্ভুক্ত।

মৌলিক সুবিধে: পানীয় জলের প্রধান উৎস এবং তা বাড়ির ভেতরে নাকি বাইরে উপলব্ধ, আলোর প্রধান উৎস (বিদ্যুৎ, কেরোসিন বা অন্য কিছু), শৌচাগারের সুবিধা ও তার ধরন, নোংরা জল নিকাশি বা ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং আলাদা স্নানাগারের উপস্থিতি।

রান্না ও পুষ্টি: রান্নাঘরের উপস্থিতি, রান্নার জন্য এলপিজি (LPG)/পিএনজি (PNG) গ্যাস কানেকশন রয়েছে কি না, রান্নার প্রধান জ্বালানি কী এবং ওই পরিবারে প্রধানত কোন খাদ্যশস্য (যেমন: চাল বা গম) খাওয়া হয়।

ডিজিটাল ও আধুনিক সম্পদ: পরিবারে রেডিও, টেলিভিশন, ইন্টারনেট সংযোগ, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ব্যবহারের স্থিতি। এছাড়া স্মার্টফোন ব্যবহারের তথ্য এবং যাতায়াতের জন্য সাইকেল, স্কুটার, মোটরসাইকেল বা গাড়ি আছে কি না।

দ্বিতীয় পর্যায়: ব্যক্তিগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক তথ্য (আসন্ন ২০২৭)
জনগণনার দ্বিতীয় পর্যায়টি এখনও শুরু হয়নি। এই প্রক্রিয়াটি শুরু হবে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে। এই পর্বে দেশের প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান নথিভুক্ত করা হবে:

জাতিভিত্তিক ও সামাজিক তথ্য: স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এই প্রথমবার তফসিলি জাতি (SC) ও তফসিলি উপজাতি (ST) ছাড়াও অন্যান্য সমস্ত নাগরিকের স্বঘোষিত ‘জাতি’ বা কাস্ট সংক্রান্ত ডেটা সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে নথিভুক্ত করা হচ্ছে।

ব্যক্তিগত বিবরণ ও শিক্ষা: প্রত্যেক নাগরিকের সঠিক বয়স, লিঙ্গ, বৈবাহিক অবস্থা, ধর্ম এবং মাতৃভাষা বা জানা অন্যান্য ভাষার বিবরণ। এর পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিদ্যালয়ে যাওয়ার স্থিতি এবং পরিবারে কোনো বিশেষভাবে সক্ষম বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আছেন কি না, তার তথ্য।

অর্থনৈতিক অবস্থা: নাগরিকের প্রধান পেশা, তিনি বছরে কতদিন কাজ পান, নাকি তিনি বেকার—সেই সম্পর্কিত নিখুঁত অর্থনৈতিক ডেটা সংগ্রহ করা হবে।

স্থানান্তর ও প্রজননের হার: মানুষ কর্মসংস্থান বা অন্য কোনো কারণে নিজের জন্মস্থান ছেড়ে অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হয়েছে কি না এবং নারীদের প্রজনন ক্ষমতার হার সংক্রান্ত তথ্য।

দেশবাসীর সার্বিক উন্নয়নের নীলনকশা তৈরি করতে এই ডিজিটাল জনগণনা এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *