ভারত-চিনকে শায়েস্তা করতে আসরে আমেরিকা! মার্কিন সিনেটের এই পদক্ষেপে কি বড় বিপদে পড়বে দিল্লি?

মার্কিন সেনেটে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কড়া বিল পাশ হয়েছে, যা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভারত ও চিনের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর সর্বময় ক্ষমতা প্রদান করবে। মূলত যে সমস্ত দেশ রাশিয়া থেকে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা অব্যাহত রেখেছে, সেই দেশগুলিকে অর্থনৈতিকভাবে শায়েস্তা করার জন্যই এই বিলটি আনা হয়েছে। সেনেটে পাশ হওয়ার পর এবার বিলটি মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে’ অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যিক সম্পর্কে বড় ধাক্কা?
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নিম্নকক্ষেও যদি এই বিলটি পাশ হয়ে আইনে পরিণত হয়, তবে তা ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক বিরাট ধাক্কা হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন যদি একশো শতাংশ পর্যন্ত চড়া শুল্ক চাপানোর এই ক্ষমতা প্রয়োগ করে, তবে ভারতের জ্বালানি আমদানি ও বাণিজ্যে তার গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাশিয়ার বিকল্প রুট ও রেললাইন তৈরির পরিকল্পনা
এদিকে, মার্কিন চাপ ও মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে আন্তর্জাতিক পণ্য বাণিজ্যকে মসৃণ ও নিরাপদ রাখতে রাশিয়া থেকে সরাসরি ভারতে একটি স্থলপথ বা রেললাইন তৈরির অভিনব প্রস্তাব নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। হরমুজ প্রণালী এবং তুরস্কের বসফরাস প্রণালীতে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে রাশিয়া এখন একটি বিকল্প বাণিজ্যিক পথ খুঁজছে।

রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ম্যারাট খুসনুলিন সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে এই মেগা পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। তাঁর প্রস্তাবিত এই দীর্ঘ রেললাইনটি রাশিয়া থেকে শুরু হয়ে তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের ওপর দিয়ে অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত ভারতে এসে পৌঁছতে পারে। এই রেল যোগাযোগের মূল উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধের বাজারেও অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি অবাধে বিক্রি করা।

অতীতে হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেল বাণিজ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ এবং এলএনজি (LNG) বাণিজ্যে প্রায় ২০ শতাংশ ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। সেই ধরনের মারাত্মক জ্বালানি সংকট এড়াতেই এই বিকল্প রেল করিডরের কথা ভাবা হচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে গোটা পরিকল্পনাটি সম্পূর্ণভাবে প্রাথমিক প্রস্তাবের স্তরেই রয়েছে। রেললাইনের সুনির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য, বিভিন্ন দেশের মধ্যে খরচ ভাগাভাগি কিংবা প্রকল্প বাস্তবায়নের দিনক্ষণ—এসব বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *