৪০ বছরের পুরোনো সিস্টেমে দাড়ি, রেলের তত্কাল টিকিট বুকিংয়ে আর টেনশন নেই

ট্রেনের টিকিট বুকিং পরিষেবাকে আরও উন্নত ও দ্রুত করতে এক বিরাট পদক্ষেপ করতে চলেছে ভারতীয় রেল। রেলওয়ের প্যাসেঞ্জার রিজার্ভেশন সিস্টেম বা PRS-এ আসছে এক নতুন এবং আধুনিক আপডেট। এই আপডেটের ফলে রেলের রিজার্ভেশন সিস্টেমের মাধ্যমে এখন থেকে মিনিটে ১.৫ লক্ষ টিকিট বুকিং করা সম্ভব হবে। শুধু তাই নয়, একসঙ্গে মিনিটে প্রায় ৪০ লক্ষ প্যাসেঞ্জারের ইনকোয়ারিও সামলে দেওয়া যাবে। উল্লেখ্য, বর্তমান সিস্টেমে যেখানে মিনিটে মাত্র ৩২,০০০ টিকিট বুক করা যায় এবং ৪ লক্ষ ইনকোয়ারি সামলানো সম্ভব হয়, সেখানে এই নতুন পরিবর্তন রেল পরিষেবায় এক বিশাল বিপ্লব আনতে চলেছে।
কেন এই আধুনিকীকরণ?
জানা গিয়েছে, বর্তমান যে সিস্টেমে রেলের টিকিট বুকিং হয়, সেটি প্রায় চার দশক পুরোনো। ১৯৮৬ সালে ‘দ্য সেন্টার ফর রেলওয়ে ইনফরমেশন সিস্টেম’ (CRIS) এটি লঞ্চ করেছিল। পরবর্তীতে ২০০২ সালে ইন্টারনেট বুকিং এবং ২০১৪ সালে নেক্সট-জেনারেশন ই-টিকিটিং সিস্টেম চালু হয়। এতদিন ধরে মূলত ২০১৪ সালের সিস্টেমেই বুকিং হয়ে আসছে।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমূল বদলে গেছে টিকিটের চাহিদা। মানুষ এখন কাউন্টারে লাইন দেওয়ার চেয়ে অনলাইনেই ভরসা রাখছেন বেশি। ভারতীয় রেলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাসের মধ্যে মোট ৬৫.৮ কোটি রিজার্ভ টিকিট বুক করা হয়েছে। যার মধ্যে ৫৭.৯০ কোটি টিকিটই কাটা হয়েছে অনলাইন মাধ্যমে—অর্থাৎ প্রায় ৮৯ শতাংশ বুকিং হয়েছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। এর ফলেই ক্রমাগত বুকিং সিস্টেমের উপর চাপ বাড়ছিল।
অগাস্ট থেকে শুরু ফেজড মাইগ্রেশন
রেল সূত্রে খবর, ২০২৬ সালের অগাস্ট মাস থেকেই ধাপে ধাপে (Phased Migration) নতুন প্যাসেঞ্জার রিজার্ভেশন সিস্টেমে মাইগ্রেশনের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই আইআরসিটিসি-র (IRCTC) বেটা ওয়েবসাইটে এই ট্রানজিশনের কাজ শুরু হয়ে গেছে।
তৎকাল টিকিটেও মিলবে দারুণ সুবিধা
আইআরসিটিসি জানাচ্ছে, গত ১৫ জুলাই বিটা ওয়েবসাইট লঞ্চ হওয়ার পর থেকেই তৎকাল টিকিট বুকিংয়ের স্পিড এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেছে। বর্তমান এই নতুন সিস্টেমে:
-
৩ মিনিটে বুকিং হওয়া তৎকাল টিকিট ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
-
৫ মিনিটের উইন্ডো ৩ শতাংশ এবং ৩০ মিনিটের উইন্ডো ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষের মতে, তৎকাল টিকিট কাটার সময় উচ্চমানের ও শক্তিশালী টিকিট বুকিং সিস্টেম থাকা অত্যন্ত জরুরি, অন্যথায় শেষ মুহূর্তে সার্ভার ডাউন বা স্লো হওয়ার সমস্যা দেখা যায়। নতুন এই সিস্টেমে সেই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।
যুক্ত হচ্ছে এআই ক্লাউড টেকনোলজি
রেল সূত্রে খবর, নতুন প্যাসেঞ্জার রিজার্ভেশন সিস্টেমে এবার যুক্ত করা হচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ক্লাউড টেকনোলজির মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। যার ফলে আগামী দিনে ট্রেনের টিকিট বুকিং প্রক্রিয়া আরও অনেক বেশি সহজ, ঝামেলাহীন এবং চোখের পলকে সম্পন্ন হবে।