১০ দিনের পচা দুধ আর ছত্রাক ধরা মাংস! টেক-সিটির বিলাসবহুল রেস্তোরাঁগুলির আসল রূপ দেখলে বমি পাবে!

কেজি কেজির পর পচা মাংস, লিটার লিটার ভেজাল তেল, পচা দুধ এবং পচন ধরা মাশরুম-মাছ—টেক-সিটি বেঙ্গালুরুর একাধিক নামী-দামি পানশালা ও রেস্তোরাঁর অন্দরের এমনই সব ভয়াবহ অনিয়মের ছবি প্রকাশ্যে এল। ফুড সেফটি অ্যান্ড ড্রাগস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (Food Safety and Drugs Administration)-এর সাম্প্রতিক এক আকস্মিক তল্লাশি অভিযানে যা উদ্ধার হয়েছে, তা দেখলে সাধারণ মানুষের গা-ঘিনঘিন করে উঠবে। চটকদার বিজ্ঞাপন ও মোড়কের আড়ালে এই সমস্ত ফুড জয়েন্টগুলি মানুষের স্বাস্থ্যের সঙ্গে কীভাবে খেলছিল, তা দেখে তাজ্জব প্রশাসনিক আধিকারিকরাও।

ইউবি সিটির ‘স্কাই লাউঞ্জ’-এ ভয়ংকর কাণ্ড
অভিযানের অংশ হিসেবে বেঙ্গালুরুর অন্যতম বিলাসবহুল শপিং মল ইউবি সিটির জনপ্রিয় পাব ‘স্কাই লাউঞ্জ’-এ হানা দেন সরকারি আধিকারিকরা। সেখানকার রান্নাঘরের অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি দেখে চক্ষু চড়কগাছ হয় সবার। পাবটি থেকে উদ্ধার হয়েছে:

ফাঙ্গাস ধরে যাওয়া প্রায় ৪৫ কেজি পচা মুরগি ও গরুর মাংস।

রান্নার কাজে ব্যবহার করার জন্য রাখা ১০ দিন মেয়াদোত্তীর্ণ দুধ ও দই।

প্রায় ১৫ লিটার ব্যবহৃত ও অস্বাস্থ্যকর রান্নার তেল (যা সঙ্গে সঙ্গেই নষ্ট করা হয়)।

রান্নাঘরের এই চরম অস্বাস্থ্যকর ও জনস্বাস্থ্যবিরোধী পরিস্থিতি দেখে তৎক্ষণাৎ ওই লাউঞ্জটি বন্ধের কড়া নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

১৩২ কেজি অস্বাস্থ্যকর খাবার ও একাধিক হোটেল সিল
শুধু ‘স্কাই লাউঞ্জ’ নয়, বেঙ্গালুরু আর্বান জেলা এবং বিভিন্ন জনপ্রিয় এলাকার একাধিক হোটেল ও খাবারের দোকানের বিরুদ্ধেও একযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তল্লাশিতে মোট ১৩২ কেজি অস্বাস্থ্যকর খাবার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য উদ্ধারগুলি হলো:

রয়্যাল চেইন হোটেল: প্রায় ৫০ কেজি হাঁসের মাংস এবং ৫ কেজি মাছ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

মাদ্রাজ কিচেন: এই জনপ্রিয় ভোজনালয় থেকে নষ্ট হয়ে যাওয়া বা পচে যাওয়া প্রায় ৫ কেজি সবুজ মটরশুঁটি উদ্ধার করা হয়েছে।

টেসকন হোটেল: রান্না করার আগেই উদ্ধার হয়েছে পচন ধরা ৫ কেজি মাশরুম।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় রেড-অ্যালার্ট
বেঙ্গালুরুর মতো ব্যস্ত ও আধুনিক শহরে রেস্তোরাঁ এবং পাবের সংখ্যা যেমন দ্রুত বাড়ছে, তেমনই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভোজনবিলাসী মানুষের বাইরে খাওয়াদাওয়ার প্রতি আগ্রহ। কিন্তু এই ধরনের নামী-দামি প্রতিষ্ঠানের অন্দরে যেভাবে স্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস করে পচা ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার পরিবেশন করা হচ্ছিল, তা সচেতন নাগরিকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে এই ঘটনা যে আক্ষরিক অর্থেই এক বিরাট রেড-অ্যালার্ট, তা বলাই বাহুল্য। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা করা এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *