আর জি কর কাণ্ডে বড় মোড়! নতুন তদন্ত শুরু হতেই দিলীপ ঘোষের গলায় কড়া হুঙ্কার, শাস্তি পাবে আসল অপরাধীরা?

কলকাতার আলোচিত আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মর্মান্তিক ধর্ষণ-খুন কাণ্ডের দেখতে দেখতে দুই বছর পূর্ণ হলো। এই দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির দিনটিতেও রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের রেশ এবং ন্যায়বিচারের দাবি জোরালোভাবে বজায় রয়েছে। এই আবহে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, এই মামলায় নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। অন্যদিকে, শিলিগুড়িতে চিকিৎসকরা নির্যাতিতার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি তুলেছেন।

দোষীরা শাস্তি পাবেই: দিলীপ ঘোষ
রবিবার আর জি কর ঘটনার দু’বছর পূর্তি উপলক্ষে কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দিলীপ ঘোষ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, একটি বিশেষ আবেদনের ভিত্তিতে রাজ্য সরকার মামলাটি আবার খুলেছে এবং বর্তমানে নতুন করে তদন্ত এগিয়ে চলেছে।

দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমাদের সরকার ক্ষমতায় এসে আবেদন পেয়ে ফাইলটা আবার খুলেছে। নতুন করে তদন্ত চলছে। আমরা দোষীদের শাস্তি দেবই। মুখ্যমন্ত্রী যে ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্ব নিচ্ছেন, এটা একটা ভালো দিক।” প্রসঙ্গত, দুই বছর আগে ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আর জি কর হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে ওই পোস্টগ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি ডাক্তারের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। এই নৃশংস ঘটনা দেশজুড়ে চিকিৎসক মহল, ছাত্রসমাজ এবং সাধারণ মানুষকে নড়িয়ে দিয়েছিল। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত ডাক্তার ও মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজ্যজুড়ে তখন ঐতিহাসিক আন্দোলন হয়েছিল। পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে শিয়ালদহ আদালত এই মামলায় সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা দিলেও, এর নেপথ্যে থাকা বড় ষড়যন্ত্র বা প্রশাসনিক গাফিলতির দিকটি নিয়ে বিতর্ক এখনও থামেনি।

শিলিগুড়িতে নির্যাতিতার মৃত্যুবার্ষিকী পালন
এদিকে রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তের মতো শিলিগুড়িতেও চিকিৎসকরা আর জি করের নির্যাতিতার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে পালন করেছেন। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকরা একটি বিশেষ স্মরণসভার আয়োজন করে নির্যাতিতার স্মৃতির উদ্দেশ্যে দুই মিনিট নীরবতা পালন করেন।

শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের ডঃ টি. কে. বিশ্বাস আক্ষেপের সুরে বলেন, “যাঁকে নৃশংসভাবে আক্রমণ করে মেরে ফেলা হয়েছিল, সেই নির্যাতিতার প্রতি শোক জানাতে আমরা এখানে জড়ো হয়েছি। দু’বছর পরেও আমরা গভীর দুঃখের সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছি এবং দুই মিনিট নীরবতা পালন করছি। আমরা দুই বছর ধরে অপেক্ষা করছি, কিন্তু সঠিক বিচার পাইনি। এখন সরকার বদলেছে, আমরা সেরাটারই আশা করছি।”

ঘটনার দুই বছর কেটে গেলেও প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা এবং আসল অপরাধীদের পূর্ণ শাস্তির দাবি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে যে অসন্তোষ ও বিতর্ক আজও জ্বলজ্যান্ত, তা এইদিনের বিভিন্ন কর্মসূচি থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *