নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট ছাড়াই কি জরুরি বার্তা পাঠানো সম্ভব? হ্যাম রেডিওর এই কৌশল জানলে চমকে যাবেন!

কারও কাছে কোনো জরুরি বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সবচেয়ে আধুনিক মাধ্যম নিঃসন্দেহে মোবাইল ফোন। বিশেষ করে যে কোনো বিপদের মুহূর্তে বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে দ্রুত যোগাযোগের জন্য মোবাইলের জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু এক ভয়ংকর বাস্তব চিত্র হলো, বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায় ঠিক ওই জরুরি পরিস্থিতিতেই মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ গায়েব হয়ে গেছে! আর নেটওয়ার্ক না থাকলে ইন্টারনেটও অচল। এই সাধারণ অথচ মারাত্মক সমস্যার মুখোমুখি কমবেশি সবাইকেই হতে হয়।

তবে আশার কথা হলো, মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট ছাড়াই এবার জরুরি বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব! আর সেই উপায়ই হাতে-কলমে করে দেখাল ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাব (West Bengal Radio Club) এবং ইন্ডিয়ান অ্যাকাডেমি অফ কমিউনিকেশন অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট।

সোদপুর রেলওয়ে পার্কে বিশেষ মক-ড্রিল
বিপর্যয়ের সময় যোগাযোগের বিকল্প মাধ্যমের গুরুত্ব সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ করে যুব সমাজের কাছে তুলে ধরতে সম্প্রতি সোদপুর রেলওয়ে পার্কে (Sodepur Railway Park) এক বিশেষ মক-ড্রিল এক্সারসাইজের আয়োজন করা হয়েছিল। হ্যাম রেডিওর (Ham Radio) উদ্যোগে আয়োজিত এই শিবিরে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রেডিও স্টেশনের কর্মী, কমিউনিকেশন ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের আধিকারিকরাসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।

কীভাবে কাজ করবে এই বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা?
অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয় কীভাবে বিপর্যয়ের মুহূর্তে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা যায়। আয়োজকদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ভূমিকম্প, বন্যা বা বড় কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে মোবাইল টাওয়ার ভেঙে পড়তে পারে বা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হতে পারে।

এই ধরনের সংকটজনক পরিস্থিতিতে রেডিও যোগাযোগের মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অত্যন্ত দ্রুত জরুরি বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। পাশাপাশি, বিপদগ্রস্ত মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও এই বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মক-ড্রিলের মাধ্যমে démontré করা হয়।

যুব সমাজকে সচেতন করার উদ্যোগ
আয়োজকদের বক্তব্য, বর্তমান যুগে মোবাইল ফোনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমানো অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থার কার্যকারিতা সম্পর্কে প্রশিক্ষিত করতে হবে। এই ধরনের মকড্রিল বা মহড়া ভবিষ্যতে যেকোনো বড় বিপর্যয়ের সময় সাধারণ মানুষকে দ্রুত সতর্ক করতে এবং উদ্ধারকার্যকে গতিশীল করতে বড় সাহায্য করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *