১০ লক্ষের কম বাজেট? পুজোর অনুদান নিয়ে নবান্নের বড় ভাবনায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ছোট ক্লাবগুলিতে

অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে দুর্গাপুজো। মে মাসে রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটাই প্রথম পুজো। বিগত সরকারের আমলে রাজ্যের প্রায় সমস্ত পুজো কমিটিকে ঢালাও আর্থিক অনুদান দেওয়া হলেও, সেই নিয়মে এবার বড়সড় পরিবর্তন আনতে চলেছে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, আগের মতো আর সবাইকে সমানভাবে অনুদান দেওয়া হবে না। শুধুমাত্র যে সমস্ত পুজো কমিটির সত্যিই অর্থের প্রয়োজন, বেছে বেছে কেবল তাদেরই আর্থিক সাহায্য করবে সরকার।

নবান্ন সূত্রে খবর, যে সমস্ত পুজোর বাজেট ১০ লক্ষ টাকার নীচে, শুধুমাত্র সেই সমস্ত ছোট পুজো কমিটিগুলিকেই অনুদান দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে অর্থ দফতরের সঙ্গে বিশদে আলোচনা করে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই।

বিগত সরকারের অনুদানের পরিসংখ্যান ও বর্তমান পরিস্থিতি

কোভিড আবহে ২০২০ সালে প্রথমবার পুজো কমিটিগুলিকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া শুরু করেছিল তৎকালীন সরকার। ধাপে ধাপে সেই অনুদানের পরিমাণ বাড়তে বাড়তে গত ২০২৫ সালে এসে দাঁড়ায় ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকায়। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পুজো অনুদানের সেই সংস্কৃতিতে এবার ইতি টানার পথে হাঁটছে নতুন প্রশাসন।

নবান্নে ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর বৈঠক

সম্প্রতি পুজোর অনুদান এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন কলকাতার পুজো কমিটিগুলির প্রধান সংগঠন ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর কর্তারা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ-ও। ফোরামের তরফে বালিগঞ্জ কালচারালের অঞ্জন উকিল এবং বেহালা নূতন দলের সন্দীপন বন্দ্যোপাধ্যায়সহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা বৈঠকে যোগ দেন।

বৈঠকের পর ফোরামের তরফে জানানো হয়, বড় রাস্তা ও গলির পুজোর অনুমোদন, বিদ্যুতের বিলে ছাড়, হোর্ডিং-ব্যানারের উপর কর্পোরেশন ট্যাক্সে ছাড় এবং পুজোর অনুদান— বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত সদর্থক মনোভাব নিয়ে সমস্ত কথা শুনেছেন এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির সঙ্গে আলোচনা করে চলতি মাসেই এই বিষয়ে তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

পুজো মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

সরকারি অনুদানের নিয়ম বদলের এই ঘোষণায় একদিকে যেমন ছোট ক্লাবগুলির মধ্যে আশার আলো দেখা দিয়েছে, তেমনই বড় পুজোগুলিও বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে।

  • ছোট ক্লাবের প্রতিক্রিয়া: দক্ষিণ কলকাতার বেহালা সাহাপুর সাংগঠনিক ক্লাবের সদস্য মৈনাক চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমরা একেবারেই ছোট করে পুজো করি। আমাদের পুজোর বাজেট ১০ লাখ তো দূরের কথা, ৫ লাখও নয়। সরকারি অনুদান পেলে আমাদের মতো ছোট ক্লাবগুলির অনেক সুবিধা হবে। আমরা আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছি।”

  • বড় ক্লাবের প্রতিক্রিয়া: অন্যদিকে, উত্তর কলকাতার খ্যাতনামা পুজো ‘টালা প্রত্যয়’-এর অন্যতম কর্তা দেবাশিস সোম মুখ্যমন্ত্রীর এই ভাবনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁর মতে, “বড় পুজো কমিটিগুলিকে বাদ দিয়ে ছোট পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক অনুদান দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত সরকার নিতে চলেছে, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। আমাদের পুজো কমিটি নিজেদের উদ্যোগে সংগৃহীত অর্থ দিয়েই এবার দেবী আরাধনা করবে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *