পাকিস্তানের মাটিতে ফের রহস্যমৃত্যু! মসজিদে ঢোকার মুখেই লুটিয়ে পড়ল কুখ্যাত লস্কর জঙ্গি

পাকিস্তানের মাটিতে ফের এক কুখ্যাত লস্কর-ই-তৈবা (Lashkar-e-Taiba) জঙ্গির রহস্যজনক মৃত্যুর খবর সামনে এল। ইসলামাবাদের একটি মসজিদে নমাজ পড়তে যাওয়ার সময় আকস্মিকভাবে লুটিয়ে পড়ে মৃত্যু হয়েছে কারি সইদ আব্দুল আজিজ নামের ওই লস্কর কম্যান্ডারের। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।

ঠিক কী ঘটেছিল ইসলামাবাদে?

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের কুবা মসজিদে প্রবেশ করেছিল লস্কর জঙ্গি কারি সইদ আব্দুল আজিজ। নমাজ পড়ার উদ্দেশ্যে সে সেখানে পৌঁছয়। মসজিদের মূল ফটক পেরোনোর পরেই সে হঠাৎ সংজ্ঞা হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সামনে আসা একটি সিসিটিভি বা মোবাইল ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, মসজিদে ঢোকার পর বাঁদিকের সিঁড়িতে কিছুক্ষণ বসে পড়েছিল আজিজ। এর পরই সে মাটিতে এলিয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে ওই অবস্থায় দেখে দ্রুত এগিয়ে এলেও শেষরক্ষা হয়নি।

হোটেলের খাবার নিয়ে রহস্য

সূত্রের খবর, মসজিদে ঢোকার ঠিক আগেই একটি স্থানীয় হোটেল থেকে খাবার খেয়েছিল আব্দুল আজিজ। ফলে ওই হোটেলের খাবার খেয়েই তার মৃত্যু হয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পুলিশি তদন্ত ছাড়া এই বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল এই জঙ্গি?

নিহত কারি সইদ আব্দুল আজিজ লস্কর সংগঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিল। জম্মু ও কাশ্মীর এলাকায় ভারতীয় সেনা ও পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারে নিহত জঙ্গিদের পরিবারকে আর্থিক ও অন্যান্য দিক থেকে সহযোগিতা জোগাত লস্করের যে বিশেষ বিভাগ, তার একেবারে শীর্ষেই ছিল সে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এর আগেও পাকিস্তানের মাটিতে একাধিক লস্কর ও জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ নেতারা রহস্যজনকভাবে প্রাণ হারিয়েছে। কিছুদিন আগেই পাকিস্তানের অন্দরে অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীদের হামলায় ৩০ জনের বেশি লস্কর জঙ্গি নিকেশ হওয়ার খবর সামনে এসেছিল। পেশোয়ার, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি থেকে শুরু করে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় যেভাবে একের পর এক জঙ্গি খতম হচ্ছে, তাতে পাক মাটিতে লস্করের অভ্যন্তরীণ কোন্দল কিংবা অন্য কোনো বড় নাশকতার তত্ত্বও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *