কম ঘুম বা জল কম খাওয়া! কোন সাধারণ অভ্যাসে মারাত্মক আকার নিচ্ছে আপনার মাইগ্রেনের সমস্যা?

মাইগ্রেন বর্তমান সময়ে এক অত্যন্ত পরিচিত অথচ যন্ত্রণাদায়ক স্নায়বিক সমস্যা। একবার এই ব্যথা শুরু হলে মাথা ঘোরানো, বমি ভাব থেকে শুরু করে আলো ও আওয়াজে অস্বস্তি—সবকিছু একসঙ্গে ঘিরে ধরে। অনেকেই ব্যথা কমানোর জন্য মুঠো মুঠো ওষুধ খান, কিন্তু ঠিক কোন কারণে এই সমস্যা বারবার ফিরে আসছে তা অনেকেই ধরতে পারেন না। চিকিৎসকদের মতে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কয়েকটি সাধারণ ভুলই মাইগ্রেনের ব্যথাকে আরও তীব্র করে তুলছে।
জেনে নিন সেই ৫টি প্রধান ভুল, যা আপনার অজান্তেই মাইগ্রেনের সমস্যা বাড়িয়ে দিচ্ছে:
১. অনিয়মিত ঘুম ও কম ঘুম: রাত জাগা বা ৬ ঘণ্টার কম ঘুমালে মস্তিষ্কের নার্ভগুলো অতিরিক্ত মাত্রায় উত্তেজিত হয়ে পড়ে। আবার ছুটির দিনে বা উইকেন্ডে অতিরিক্ত সময় ঘুমানোও মাইগ্রেনের অন্যতম বড় ট্রিগার।
-
সমাধান: প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন। প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন।
২. অপর্যাপ্ত জলপান ও খাবার স্কিপ করা: শরীরে জলের অভাব বা ডিহাইড্রেশন মাইগ্রেনকে দ্রুত ডেকে আনে। পাশাপাশি, সকালের ব্রেকফাস্ট বা দুপুরের লাঞ্চ স্কিপ করলে রক্তে শর্করার মাত্রা (Blood Sugar) হঠাৎ কমে যায় এবং তীব্র মাথা ব্যথা শুরু হয়।
-
সমাধান: দিনে অন্তত ৩ লিটার জল পান করুন। ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা অন্তর হালকা কিছু খাওয়ার অভ্যাস রাখুন এবং চা-কফির পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে দিন।
৩. টানা স্ক্রিনের সামনে বসে থাকা: মোবাইল বা ল্যাপটপের নীল আলো এবং একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এর সঙ্গে অফিস বা পড়াশোনার স্ট্রেস মিলে মাইগ্রেন অ্যাটাককে তরান্বিত করে।
-
সমাধান: চিকিৎসকদের বিখ্যাত ’20-20-20 Rule’ মেনে চলুন। প্রতি ২০ মিনিট অন্তর স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে ২০ ফুট দূরে ২০ সেকেন্ডের জন্য তাকান। ডিভাইসের ব্রাইটনেসও নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
৪. নির্দিষ্ট কিছু খাবার খাওয়া: চিজ, চকোলেট, প্রসেসড মিট, এএসজি (MSG), অ্যালকোহল বা কোল্ড ড্রিংকসে থাকা ‘টাইরামিন’ নামক উপাদান অনেকের শরীরেই মাইগ্রেন ট্রিগার করে।
-
সমাধান: একটি ফুড ডায়েরি রাখতে পারেন। কোন খাবার খাওয়ার পর আপনার মাথা ব্যথা বাড়ছে তা নোট করুন এবং সেই ট্রিগার ফুডগুলো এড়িয়ে চলুন।
৫. মানসিক চাপ বা স্ট্রেস চেপে রাখা: অফিসের কাজের চাপ বা ব্যক্তিগত টেনশন সরাসরি মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব ফেলে। এমনকি অতিরিক্ত চাপ কেটে যাওয়ার পরেও ‘লেট-ডাউন মাইগ্রেন’ (Let-down Migraine) হতে পারে।
-
সমাধান: প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট ধ্যান বা শ্বাসের ব্যায়াম করুন। নিয়মিত হাঁটুন এবং মনের চাপ কমাতে বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে তা শেয়ার করুন।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন? মাসে যদি ৪ বারের বেশি মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা দেয়, ওষুধের পরেও যদি ব্যথা না কমে, চোখে ঝাপসা দেখেন কিংবা হঠাৎ খুব তীব্র মাথা ব্যথা শুরু হয়, তবে দেরি না করে অবিলম্বে একজন নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন। মাইগ্রেন হয়তো পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য নয়, তবে জীবনযাত্রার এই ৫টি ভুল শুধরে নিলে এবং নিয়ম মেনে চললে ব্যথার প্রকোপ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে ফেলা সম্ভব।