পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে বিয়ারের দোকানে বন্দি! দেড় লক্ষ টাকা বেতনের চাকরির আশায় গিয়ে চরম নরকযন্ত্রণা ভারতীয় তরুণীর

মাসে দেড় লক্ষ টাকা বেতনের লোভনীয় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নিয়ে গিয়ে এক ভারতীয় তরুণীকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক প্রতারক সংস্থার বিরুদ্ধে। পুণের একটি সংস্থার খপ্পরে পড়ে ২৮ বছর বয়সি নাগপুরের ওই তরুণী পর্তুগালে গিয়ে চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত কোনও রকমে সেখান থেকে পালিয়ে দেশে ফিরে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই নির্যাতিতা।

এনডিটিভি সূত্রে খবর, নাগপুরের ওই তরুণী ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে পুণের ‘উই মাইগ্রেট’ (We Migrate) নামক একটি সংস্থার সন্ধান পান। ওই এজেন্সির লোকজন তাঁকে পর্তুগালে ক্যাশিয়ারের চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। বলা হয়, দিনে মাত্র ৮ ঘণ্টা কাজ করলেই মিলবে মাসে দেড় লক্ষ টাকা বেতন। এই চাকরি এবং ভিসা সহ বিভিন্ন নথিপত্র তৈরির নাম করে কয়েক দফায় তরুণীর থেকে মোট ১১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় ওই সংস্থা।

অভিযোগ, তরুণী পর্তুগালে পৌঁছনোমাত্রই পুণের এজেন্সির লোকজন তাঁর পাসপোর্ট কেড়ে নেয় এবং একটি ঘরে দু’দিন বন্দি করে রাখে। এর পর তাঁকে স্থানীয় একটি বিয়ারের দোকানের মালিকের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে তাঁর ওপর নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো শুরু হয়। পাসপোর্ট ফেরত চাইতে গেলে প্রতারকরা উল্টে আরও টাকা দাবি করে।

প্রায় একমাস ধরে এই অকথ্য অত্যাচার সহ্য করার পর কোনোমতে পালানোর পরিকল্পনা করেন ওই তরুণী। প্রথমে বাসে করে লিসবন পৌঁছন তিনি। সেখান থেকে মাদ্রিদ হয়ে বিমানে দোহা হয়ে শেষ পর্যন্ত ভারতে নিজের দেশে ফেরেন।

তবে এখানেই শেষ নয়। দেশে ফেরার পর ওই প্রতারক চক্র ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে। মালটায় কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে তরুণীর থেকে আরও ৩ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাঁর স্বামীকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় অভিযুক্তরা। এর পরেই পুণে পুলিশের দ্বারস্থ হন ওই তরুণী। তাঁর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ‘উই মাইগ্রেট’ সংস্থার বিরুদ্ধে মানব পাচার, প্রতারণা ও তোলাবাজির মামলা রুজু করেছে পুণে পুলিশ। গোটা চক্রের জাল কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *