‘আর নয়, এবার উন্নয়ন হবে পূর্ব ভারতে!’ মোদীর প্রাতরাশ বৈঠক থেকে উঠে এল বাংলার উন্নতির বিরাট ব্লু-প্রিন্ট

শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত হল এক বিশেষ প্রাতরাশ বৈঠক। আমন্ত্রিত এনডিএ এবং শরিকদলের সাংসদদের পাশাপাশি এই বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন সম্প্রতি খবরের শিরোনামে থাকা একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ আমন্ত্রিত সাংসদদের বাসে করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এতকিছুর মাঝে নজর কেড়েছে বৈঠকে দেব-এর অনুপস্থিতি। কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, আবু তাহের ও ইউসুফ পাঠানরা উপস্থিত থাকলেও দেব এদিনের বৈঠকে যাননি।

বাংলার হৃত গৌরব ফেরানোর বার্তা ও যোগা চর্চা
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এই প্রাতরাশ বৈঠকটি অত্যন্ত হালকা মেজাজে ও আন্তরিক পরিবেশে হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাংসদরা।

বৈঠকে এনসিপিআই ও অন্যান্য সাংসদদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের উপর বিশেষ জোর দেন। সংসদে নিজেদের উপস্থিতি ও কাজের পরিধি আরও বাড়ানোর পরামর্শও তিনি দেন।

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত জোভিয়াল মুডে ছিলেন এবং জানতে চান কারা কারা নিয়মিত যোগা করেন। এরপর তিনি উপস্থিত সকলকে নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হওয়ার পরামর্শ দেন।

শতাব্দী রায় জানান, চা ও প্রাতরাশের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খুব খোলামেলা ও মিষ্টি সুরে নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজের জীবনের সাধারণ ব্যাকগ্রাউন্ডের কথা উল্লেখ করে বলেছেন যে তাঁদের সকলের মূল উদ্দেশ্য দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। পাশাপাশি তিনি ৪০ বছর বয়স হলেই নিয়মিত যোগা করা এবং বছরে অন্তত একবার সম্পূর্ণ মেডিক্যাল টেস্ট করানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

পূর্ব ভারতের উন্নয়ন নিয়ে মোদীর বড় আশ্বাস
বৈঠক শেষে বেরিয়ে সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, পূর্ব ভারতের উন্নয়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তাঁর কথায়, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন— “পূর্বের রাজ্য থেকে কাঁচামাল আসে, মজুর আসে আর উন্নতি হয় পশ্চিমে। তবে আর নয়। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস এবার উন্নয়ন হবে পূর্বের রাজ্যে। কলকাতা, পাটনা, ভুবনেশ্বর, গুয়াহাটি— শহরের এমন ভোল বদল হবে যে আপনারা ভাবতেও পারবেন না।”

সাংসদদের নানা আর্জি ও দাবি
এদিনের এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে বাংলার সাংসদরা তাঁদের বিভিন্ন এলাকার সমস্যা ও দাবি প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন:

অরূপ চক্রবর্তীর আর্জি: সাংসদ তহবিলের বরাদ্দ ৫ কোটি টাকা থেকে ১৮ শতাংশ জিএসটি কাটার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নজরে আনার আর্জি জানান তিনি, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে উন্নয়নের পুরো টাকাটা পৌঁছতে পারে।

আবু তাহেরদের আর্জি: মুর্শিদাবাদ জেলায় শব্দদূষণের নাম করে মসজিদের মাইক ও আজান বন্ধ করে দেওয়ার মতো স্পর্শকাতর বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পর খোদ প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন আবু তাহের খান। দেশের দুই শীর্ষ পদাধিকারীকে তাঁরা জানান যে এটি তাঁদের অন্তরের গভীর ব্যথা, যা তাঁরা নিয়ম মেনে সংশোধনের অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এই বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হলেও, বৈঠক শেষে আবু তাহেররা আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তাঁরা নিজেদের মতো করে জনস্বার্থের দাবি নিয়ে কথা বললেও, তাঁরা এখনও এনসিপিআই-এর সঙ্গেই রয়েছেন এবং বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *