সীমান্তে ওষুধের আড়ালে বিশাল পাচারচক্র! কোটি টাকার নথিবিহীন ওষুধ উদ্ধার হতেই যৌথ অভিযানে সিল নামী দোকান

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বিথারী এলাকায় বেআইনি ওষুধ কারবারের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক সাফল্য পেল এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ (EB), রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে যৌথভাবে চালানো এই ম্যারাথন অভিযানে সীমান্ত সংলগ্ন বিথারী বাজারের একটি নামী ওষুধের দোকান ও দুটি গোডাউন থেকে বিপুল পরিমাণ নথিবিহীন ও অবৈধ ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে চলা তল্লাশি শেষে দোকান ও গোডাউনগুলি সম্পূর্ণ সিল করে দিয়েছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ব্যবসায়ী শহিদুল মণ্ডল (যিনি ‘শহিদুল ডাক্তার’ নামে পরিচিত) এবং তাঁর ছেলে লয়েড মণ্ডল এলাকা ছেড়ে চম্পট দিয়েছেন।
বাংলাদেশ পাচারের চাঞ্চল্যকর ছক
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ওষুধের আড়ালে একটি বিশাল অবৈধ পাচারচক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠছিল। সেই তথ্যের সত্যতা যাচাই করতেই শুক্রবার বিথারী বাজারের ‘লয়েড মেডিকেল’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানে আচমকা হানা দেয় যৌথ দল।
মূল দোকান এবং দুটি গোডাউনে তল্লাশি চালিয়ে পেটি পেটি নথিবিহীন ওষুধ উদ্ধার করা হয়, যার সপক্ষে কোনও বৈধ কেনাবেচার চালান বা কাগজপত্র মালিকপক্ষ দেখাতে পারেনি। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, এই সমস্ত ওষুধ বেআইনি উপায়ে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাচারের জন্যই সেখানে মজুত করা হয়েছিল।
রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল
সীমান্তে এই চাঞ্চল্যকর উদ্ধারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ তুঙ্গে উঠেছে। রাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনের এই সাহসী পদক্ষেপের প্রশংসা করে বিজেপি নেতা বৃন্দাবন সরকার বলেন, “তৃণমূলের আমলে যে সমস্ত বেআইনি কাজ রমরমিয়ে চলছিল, তা আর চলবে না। বিথারীতে যৌথ অভিযান চালিয়ে বেআইনি ওষুধ উদ্ধার ও দোকান সিল করা হয়েছে। অভিযুক্ত শহিদুল ও তাঁর ছেলে লয়েড জাল ওষুধ বাংলাদেশে পাচার করে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টির আমলে এই ধরনের চক্রান্ত ও অবৈধ কারবার আর বরদাস্ত করা হবে না।”
বর্তমানে পুলিশ ও এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের যৌথ দল পলাতক শহিদুল মণ্ডল ও তাঁর ছেলের সন্ধানে বিভিন্ন সম্ভাব্য ডেরায় চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে। এই আন্তর্জাতিক অবৈধ ওষুধ চক্রের পেছনে আর কোন কোন রাঘববোয়াল জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে ঘটনার বিশদ তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।