আর্থিক উন্নতি হলেই কি এসসি-এসটি সংরক্ষণ বন্ধ? সুপ্রিম কোর্টে মোদী সরকারের ঐতিহাসিক অবস্থান জানাল দেশবাসীকে

পরিবারের বার্ষিক আয় বৃদ্ধি পেলেই কি কোনো তফসিলি জাতি (SC) বা তফসিলি উপজাতি (ST) পরিবারের সদস্য সংরক্ষণের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন? ওবিসি (OBC)-দের মতো তাঁদের ক্ষেত্রেও কি প্রযোজ্য হওয়া উচিত ‘ক্রিমি লেয়ার’ (Creamy Layer) নীতি? সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় নিজেদের অবস্থান সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে কেন্দ্র সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিল—এসসি ও এসটি সংরক্ষণে ‘ক্রিমি লেয়ার’ নীতি কোনোভাবেই প্রয়োগ করা যায় না।
ঐতিহাসিক বঞ্চনাই মূল ভিত্তি
কেন্দ্র সরকারের যুক্তিতে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে যে, ভারতের সংরক্ষণ নীতি শুধুমাত্র কোনো পরিবারের বর্তমান আর্থিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে তৈরি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন সামাজিক বৈষম্য, অস্পৃশ্যতা, ঐতিহাসিক বঞ্চনা এবং জনজাতিগত পিছিয়ে থাকার গভীর ইতিহাস। সরকারের মতে, কোনো পরিবার অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হলেই সমাজে তাঁর বিরুদ্ধে চলা জাতপাতভিত্তিক বৈষম্য বা বঞ্চনার বাস্তবতা রাতারাতি মুছে যায় না।
ওবিসি এবং এসসি-এসটির তফাত কোথায়?
ওবিসি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে বার্ষিক আয় ৮ লক্ষ টাকার বেশি হলে ‘ক্রিমি লেয়ার’-এর আওতায় এনে সংরক্ষণের সুযোগ থেকে বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু এসসি ও এসটি-র ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য না করার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে শক্ত যুক্তি তুলে ধরেছে কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রক।
সরকারের যুক্তি অনুযায়ী—
ওবিসি এবং এসসি-এসটি-র সামাজিক অনগ্রসরতার ভিত্তি সংবিধানের ৩৪১, ৩৪২ ও ৩৪২A অনুচ্ছেদে সম্পূর্ণ পৃথকভাবে উল্লেখ রয়েছে। ফলে এই দুই বিভাগকে একই দাঁড়িপাল্লায় মাপা পুরোপুরি অনুচিত।
সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রক জানিয়েছে, এই বিষয়ে যেকোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপযুক্ত স্থান হল দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা বা সংসদ। তাই সাংবিধানিক এই বিষয়ে শীর্ষ আদালতকে সংযত থাকার আবেদনও জানানো হয়েছে।
২০২৪-এর রায়ের পর নতুন বিতর্ক
২০২৪ সালের আগস্টে সুপ্রিম কোর্টের একটি পর্যবেক্ষণের পর সংরক্ষিত শ্রেণির মধ্যে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকা অংশকে আলাদা করার দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছিল। তবে কেন্দ্র বারবার জোর দিয়ে জানিয়েছে যে, বিস্তারিত আর্থ-সামাজিক সমীক্ষা ছাড়া কেবল অর্থনৈতিক মাপকাঠিতে সাংবিধানিক সংরক্ষণ নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা অত্যন্ত বিপজ্জনক। বলাই বাহুল্য, এই মামলাটি এখন আর কেবল ‘ধনী বনাম দরিদ্র’-এর লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই; এটি সরাসরি আঘাত করছে দেশের ঐতিহাসিক সামাজিক বৈষম্যের প্রতিকার নিশ্চিত করার মূল সাংবিধানিক ভিত্তির ওপর।