স্কুল বাস ও পুলকার নিয়ে কড়া নির্দেশ! ১৫ বছরের পুরনো গাড়ি চালালেই কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি রাজ্য সরকারের

স্কুলপড়ুয়াদের যাতায়াতে ব্যবহৃত বাস ও পুলকারের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। গাড়ির বয়সসীমা পেরিয়ে গেলে কিংবা প্রয়োজনীয় নথি ও ফিটনেস সার্টিফিকেট না থাকলে সেই গাড়িতে কোনোভাবেই ছাত্রছাত্রীদের পরিবহন করা যাবে না। স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে সমস্ত বেসরকারি পরিবহণ সংস্থাকে এই নিয়ম অত্যন্ত কঠোরভাবে মেনে চলার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং।

পরিবহণ মন্ত্রীর কড়া নির্দেশিকা
পরিবহণমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে—

বয়সসীমা: ১৫ বছরের বেশি পুরনো কোনো গাড়ি স্কুলপড়ুয়াদের পরিবহণের কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

নথি ও ফিটনেস: বৈধ ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং প্রয়োজনীয় আইনি কাগজপত্র না থাকা গাড়ির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দার্ঢ্য পদক্ষেপ: রাজ্যের প্রতিটি জেলার জেলাশাসককেও (DM) এই নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং জানিয়েছেন, “১৫ বছরের বেশি পুরনো এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছাড়া কোনো গাড়িকে রাস্তায় চলতে দেওয়া হবে না। অনেক পুরনো গাড়ির মালিকই গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট করান না। নিরাপত্তার স্বার্থে এই ধরনের গাড়ির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নজরদারির আওতায় স্কুলের নিজস্ব বাস ও ভাড়া করা গাড়িও
এক্ষেত্রে শুধুমাত্র স্কুলগুলির নিজস্ব বাসই নয়, বরং বাইরে থেকে ভাড়ায় আনা পুলকার বা অন্যান্য বেসরকারি অপারেটরদের গাড়িগুলিও এই কঠোর নজরদারির আওতায় আসছে। বহু স্কুলই পড়ুয়াদের আনা-নেওয়ার জন্য বেসরকারি গাড়ি বা ভ্যানের ওপর নির্ভর করে। সেই সমস্ত যানবাহনের ক্ষেত্রেও গাড়ির বয়স, ফিটনেস এবং আইনি নথিপত্র সংক্রান্ত একই নিয়ম সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। শুধু কাগজপত্রে ঠিক থাকলেই হবে না, গাড়িটি আদতে পড়ুয়াদের পরিবহণের উপযুক্ত স্বাস্থ্য বা অবস্থায় রয়েছে কি না, তাও নিশ্চিত করতে হবে। সুরক্ষার ক্ষেত্রে সামান্যতম ত্রুটি ধরা পড়লেও সংশ্লিষ্ট গাড়ি বা মালিকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।

অতীত থেকে শিক্ষা ও প্রশাসনের নজরদারি
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ নভেম্বর হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় পড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়ার সময় একটি পুলকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পুকুরে পড়ে যায়। মর্মান্তিক সেই দুর্ঘটনায় তিন স্কুলপড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছিল। এই ঘটনার পরই স্কুলপড়ুয়াদের পরিবহণে ব্যবহৃত গাড়িগুলির ফিটনেস এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছিল। বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো, ছাত্রছাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াতের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত না করা। সরকারের এই নির্দেশিকা জারির পর এখন স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং বেসরকারি পরিবহণ সংস্থাগুলি নিজেদের গাড়িগুলির বৈধতা ও ফিটনেস যাচাই করে নিতে তৎপর হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *