‘সব কথা বলার দিন আসলে বলব!’ অভিষেক বৈঠক নিয়ে মদন মিত্রের বিস্ফোরক হুঙ্কার, অস্বস্তিতে তৃণমূল?

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠক এবং সেই বৈঠকে কী কথা হয়েছিল—তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ বজায় রেখেছেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। সম্প্রতি বিদেশযাত্রার অনুমতি ও রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে মদন মিত্রের করা মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তিনি দাবি করেছেন যে, তিনি মোট আলোচনার মাত্র “১০ ভাগ” প্রকাশ করেছেন, বাকি “৯০ ভাগ” এখনও বলাই হয়নি!
মদন মিত্রের চাঞ্চল্যকর দাবি ও হুঁশিয়ারি
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মদন মিত্র ফের বিস্ফোরক দাবি করে বলেন, “আমি সেই কথাই মেনে বলেছি যে, সবটা কিছুই বলিনি, আরও অনেক কথাই আছে। কিন্তু সব কথা বলার দিন আসলে বলব। একদিনে তো সবটা বলা যায় না।”
তাঁর দাবি, সেই বৈঠকে তিনি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষ। বৈঠকে অভিষেকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও বিদেশ যাত্রার প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। মদন মিত্রের সংযোজন, “আমাদের যে চিন্তাধারাটা ছিল, আমরা সরাসরি অভিষেকের সঙ্গে কথা বলব। ওকে আমরা বুঝিয়ে বললাম যে তুই ছাড়লে তোর ওপর থেকে রাগটা বেরিয়ে যাবে। সবটা শুনে অভিষেক বলল, একটা কাজ করো, তুমি ওদের বলো আমার বিদেশ যাত্রার পারমিশনটা দিয়ে দিতে… আমেরিকা আমার যাওয়ার আছে।” এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে যে, তবে কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে বিজেপির সঙ্গে কোনো বোঝাপড়া বা ‘সেটিং’ করতে চেয়েছিলেন?
কুণাল ঘোষের প্রতিক্রিয়া ও দুই নেতার সমীকরণ
মদন মিত্রের এই বিস্ফোরক দাবির সত্যতা নিয়ে সরাসরি মুখ না খুললেও, দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় প্রকাশ্যে আনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কুণাল ঘোষ। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “যদি আমি, মদনদা বা অভিষেক, আমরা কোনো বিষয় দলের স্বার্থে কোনো আলোচনা করেও থাকি, তার কোনো অংশবিশেষ বাইরে বলে দেওয়া—বা যেটা হয়নি সেরকম একটা ন্যারেটিভ তৈরি হয়ে যাওয়া—খুবই দুর্ভাগ্যজনক।” তবে কুণালবাবু মদন মিত্রের সমস্ত দাবিকে একবাক্যেমিথ্যা বলেও উড়িয়ে দেননি, যা জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিধানসভা চত্বরে মদন মিত্র ও কুণাল ঘোষকে নিজেদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ কথা বলতেও দেখা যায়। পরবর্তীতে মদন মিত্র জানান, কুণাল অন্তত এইটুকু স্বীকার করায় তিনি খুশি যে, তাঁরা দুজনে মিলে অভিষেককে ঠান্ডা মাথায় বুঝিয়েছিলেন। তবে দলের অন্দরের কথা এভাবে বাইরে চলে আসা নিয়ে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট।
সব মিলিয়ে, রাজত্ব ও রাজনীতির এই কুশীলবদের গোপন বৈঠকের নেপথ্য কাহিনীর ঠিক কতখানি সত্যি আর কতখানি বাকি রয়েছে, তা নিয়ে এখন সরগরম বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গন।