শ্রাবণ মাসের ব্রতের মাঝেই হঠাৎ পিরিয়ডস শুরু হলো? উপবাস কি রাখা যাবে? জানুন শাস্ত্রের আসল নিয়ম!

শ্রাবণ মাস ভগবান শিবের আরাধনার জন্য অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়। এই পুরো মাস জুড়েই ভক্তরা মহাদেবের পুজো-অর্চনা করেন। কেউ-কেউ শ্রাবণ মাসের চারটি সোমবারে উপবাস (ব্রত) পালন করেন, আবার অনেকে গোটা মাস জুড়েই নিরামিষ খান। তবে অনেক সময়ই ব্রত পালন চলাকালীন মহিলাদের মনে একটি সংশয় দেখা দেয়—উপবাসের দিনে হঠাৎ ঋতুস্রাব (পিরিয়ডস) শুরু হলে কী করা উচিত? ব্রত কি ছেড়ে দেওয়া উচিত, নাকি তা জারি রাখা যায়?
ধর্মীয় রীতি ও শাস্ত্রীয় অনুশাসন অনুযায়ী এই বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে:
১. ঋতুস্রাব শুরু হলে কি ব্রত বা উপবাস ভাঙা উচিত?
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, ব্রত পালন চলাকালীন হঠাৎ পিরিয়ডস শুরু হলে উপবাস ছেড়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। ঋতুস্রাবকে কখনোই ব্রত ভাঙার কারণ হিসেবে গণ্য করা হয় না। একজন নারী তাঁর শারীরিক সামর্থ্য ও স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে সহজেই উপবাস বজায় রাখতে পারেন।
২. এই সময়ে কীভাবে পুজো করবেন?
পারিবারিক বা প্রচলিত কিছু সামাজিক নিয়মের কারণে এই সময় সরাসরি প্রতিমা স্পর্শ বা প্রত্যক্ষ পূজা-অর্চনায় কিছু নিষেধাজ্ঞা থাকে, তবুও ভক্তি প্রকাশের পথ কখনোই বন্ধ হয় না:
মন্ত্র জপ: সকালে স্নান করে পরিষ্কার বস্ত্র পরে শান্ত মনে শিবকে স্মরণ করা যায় এবং মনে মনে ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ (Om Namah Shivaya) মন্ত্র জপ করা উচিত।
পাঠ ও শ্রবণ: নিজের সুবিধামতো মনে মনে শিব চালিসা বা শ্রাবণ সোমবার ব্রতকথা পাঠ কিংবা তা শ্রবণ করা যেতে পারে।
শিব ও শক্তির দর্শন
সনাতন ধর্মে মহিলাদের কেবল একজন ব্যক্তি হিসেবে নয়, বরং ‘আদি শক্তি’ ও সৃষ্টির উৎস হিসেবে দেখা হয়। ভারতীয় দর্শন অনুসারে, শক্তি ছাড়া শিবও অসম্পূর্ণ। ভগবান শিব ও মাতা পার্বতীর মিলন ও সহাবস্থান এই বার্তাই দেয় যে শিব ও শক্তি একে অপরের পরিপূরক। তাই ঋতুস্রাবের মতো একটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক শারীরিক প্রক্রিয়া কোনো নারীর ভক্তি বা আধ্যাত্মিক সাধনায় কখনোই বাধা সৃষ্টি করতে পারে না।