রাম মন্দিরের পূজাপাত্র চুরি ও নিট কাণ্ড নিয়ে উত্তাল সংসদ! স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব চেয়ে বিরোধীদের হাঙ্গামা রাজ্যসভায়

বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতি ও জবাবদিহির দাবিতে ফের তুমুল হট্টগোল ও অচলাবস্থা সৃষ্টি হলো। দিল্লির বিভিন্ন ঘটনা, নিট (NEET) পরীক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের পদক্ষেপ এবং রাম মন্দিরের পূজাপাত্র চুরির অভিযোগের মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলিকে সামনে রেখে বিরোধীরা সরব হওয়ায় উচ্চকক্ষের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
চেয়ারম্যান ও কিরেন রিজিজুর ভূমিকা
সকাল ১১টায় রাজ্যসভার অধিবেশন শুরু হলে চেয়ারম্যান সি.পি. রাধাকৃষ্ণন প্রয়োজনীয় নথি টেবিলে রেখে সদস্যদের ‘জিরো আওয়ার’-এ জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি উত্থাপন করার অনুরোধ জানান। কিন্তু কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টিসহ বিরোধীরা তাঁদের পূর্বনির্ধারিত দাবিতে অনড় থেকে স্লোগান দিতে শুরু করেন। চেয়ারম্যান বিরোধী দলগুলির বক্তব্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুকে অনুরোধ করেন।
এর জবাবে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, নিয়ম মেনে প্রতিদিন একই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করা এবং স্পিকারকে নির্দেশ দেওয়া অনুচিত। তিনি কটাক্ষ করে বলেন যে, কংগ্রেসের এই লাগাতার হট্টগোলের কারণে নতুন সদস্য পবন খেরা-র মতো তরুণ সাংসদরা সংসদের উচ্চকক্ষে নিজেদের কথা বলার সুযোগই পাচ্ছেন না।
হট্টগোলের জেরে অধিবেশন মুলতবি
বিরোধী সাংসদরা তাঁদের আসন ছেড়ে ওয়েলে চলে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও আন্দোলনরত সদস্যরা শান্ত না হওয়ায় এবং জিরো আওয়ারের কার্যক্রম সম্পূর্ণ ব্যাহত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত চেয়ারম্যান সি.পি. রাধাকৃষ্ণন বাধ্য হয়ে সকাল ১১টা বেজে ২৫ মিনিটে অধিবেশন দুপুর ১২টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।
বর্ষাকালীন অধিবেশনে লাগাতার অচলাবস্থা
গত ২০শে জুলাই থেকে শুরু হওয়া সংসদের এই বর্ষাকালীন অধিবেশন জুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও জনবহুল ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরকার বনাম বিরোধী সংঘাত লেগেই রয়েছে। বিশেষ করে অযোধ্যা রাম মন্দিরের পূজাপাত্র চুরির অভিযোগ এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের মতো বিষয়গুলি নিয়ে উচ্চকক্ষে বারবার অচলাবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।