ট্রেনের খাবার কি সত্যিই এত খারাপ? লোকসভায় বড় পরিসংখ্যান পেশ করলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব

ভারতীয় রেলে প্রতিদিন ২০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ যাতায়াত করেন এবং যাত্রাপথে ক্ষুধা মেটাতে বহু মানুষই রেলের ক্যাটারিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করেন। সম্প্রতি লোকসভায় এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ভারতীয় রেলের ক্যাটারিং পরিষেবা এবং খাবারের মান সম্পর্কিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য তুলে ধরেছেন। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন (IRCTC) প্রতি বছর ট্রেনে ৫৮ কোটিরও বেশি খাবার (মিল) সরবরাহ করে থাকে।

খাবারের মান ও নামমাত্র অভিযোগের হার
রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, ট্রেনে পরিবেশিত খাবারের মান নিয়ে যাত্রীদের তরফ থেকে অত্যন্ত কম অভিযোগ আসে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খাবারের মান নিয়ে অভিযোগের হার মাত্র ০.০০০৮ শতাংশ!

গত তিন বছরে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে আইআরসিটিসি কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে। নিম্নমানের খাবার সরবরাহের দায়ে:

মোট ৫.১৩ কোটি টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।

৫৪টি ক্ষেত্রে কারণ দর্শানোর নোটিশ (Show Cause Notice) জারি করা হয়েছে।

এবং নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে ৬টি চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।

পাশাপাশি, খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বহু লাইসেন্সধারীকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং সেই নিষিদ্ধ ক্যাটারিং হোল্ডারদের একটি তালিকা আইআরসিটিসি-র অফিশিয়াল ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়।

রান্নাঘরে নজরদারি ও খাদ্য নিরাপত্তার মানদণ্ড
ট্রেনের প্যান্ট্রি কার এবং বেইস কিচেনগুলিতে খাদ্যের গুণমান ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত আকস্মিক পরিদর্শন (Surprise Inspection) করা হয়। খাদ্য সুরক্ষা কর্মকর্তা সহ রেলওয়ে এবং আইআরসিটিসি আধিকারিকরা এই পরিদর্শনে অংশ নেন। সরকারি এই তদারকিতে রান্নার জনবল, সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ এবং সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হয়।

পরিচ্ছন্নতা ও খাদ্যের মান উন্নত করতে যে বিশেষ পদক্ষেপগুলি নেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে—

বেইস কিচেনগুলি থেকে সুনির্দিষ্টভাবে মানসম্মত খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা।

আধুনিক বেইস কিচেন স্থাপন।

রান্নার জায়গাগুলির রিয়েল-টাইম ও উন্নত পর্যবেক্ষণের জন্য বেইস কিচেনগুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরা ইনস্টল করা।

খাবার তৈরির ক্ষেত্রে জনপ্রিয় ও ব্র্যান্ডেড কাঁচামাল ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা।

তৃতীয় পক্ষের নিরীক্ষা ও স্যাম্পেল টেস্ট
খাবারের গুণমান যাচাইয়ের পদ্ধতি আরও স্বচ্ছ করতে নিয়মিত থার্ড-পার্টি বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে অডিট বা নিরীক্ষা পরিচালনা করা হয়। এছাড়া প্যান্ট্রি কার ও কিচেন থেকে নিয়মিত খাবারের নমুনা (Sample Testing) সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয় এবং যাত্রীদের নিয়ে কাস্টমার স্যাটিসফ্যাকশন সার্ভে বা সন্তুষ্টি জরিপও চালানো হয়। রেলের এই কড়া নজরদারির ফলেই কোটি কোটি যাত্রীর কাছে মানসম্মত খাবার পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *