জেলেই ২৪ ঘণ্টা নিজের পছন্দমতো সেবক রাখার অনুমতি পেলেন আসারাম বাপু! খারিজ সাজা স্থগিতের আবেদন

ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপুকে (Asaram) বড় স্বস্তি দিল সুপ্রিম কোর্ট। শারীরিক অসুস্থতার কথা মাথায় রেখে জেলে আসারামকে ২৪ ঘণ্টার জন্য নিজের পছন্দের একজন প্রশিক্ষিত পরিচর্যাকারী (trained caregiver) রাখার অনুমতি দিল শীর্ষ আদালত। তবে একই সঙ্গে তাঁর সাজা স্থগিতের আবেদন এই মুহূর্তে মঞ্জুর করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি বি ভারালে-র বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আসারামের শারীরিক অবস্থার যদি আরও অবনতি হয়, তবে তিনি ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারবেন।
AIIMS-এর স্বাস্থ্য রিপোর্টে কী বলা হয়েছে?
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS)-এর চিকিৎসকরা আসারামের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে আদালতে একটি রিপোর্ট জমা দেন। সেই রিপোর্টে জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন নেই। তবে তাঁর বেশ কিছু গুরুতর শারীরিক সমস্যা রয়েছে এবং তার জন্য সারাক্ষণ একজন প্রশিক্ষিত পরিচর্যাকারীর সাহায্য প্রয়োজন। এইমস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, আসারাম করোনারি আর্টারি ডিজিজ, থ্যালাসেমিয়া এবং অস্টিওপোরোসিস-সহ একাধিক জটিল রোগে ভুগছেন।
হাইকোর্টে তথ্য গোপনের অভিযোগ:
এদিনের শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতের নজর কাড়েন যে, সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও আসারাম রাজস্থান হাইকোর্ট থেকে চিকিৎসাজনিত কারণে ২০ দিনের প্যারোল পেয়ে গিয়েছেন। সলিসিটর জেনারেলের অভিযোগ, হাইকোর্টে যেমন সুপ্রিম কোর্টের মামলার কথা গোপন করা হয়েছিল, তেমনই সুপ্রিম কোর্টেও হাইকোর্টে প্যারোল চাওয়ার বিষয়টি জানানো হয়নি।
এই তথ্য সামনে আসতেই বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারপতি সুন্দরেশ। তিনি মন্তব্য করেন, “আমাদের নির্দেশের পরেও এমনটা করা ঠিক হয়নি।” তবে এই বিষয়টির বিস্তারিত শুনানি পরবর্তী সময়ে হবে বলে জানিয়ে আপাতত বন্দি আসারামকে পরিচর্যাকারী রাখার অনুমতি দিয়েছে আদালত।
মামলার প্রেক্ষাপট:
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় ২০১৮ সালে যোধপুরের বিশেষ পকসো আদালত আসারামকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা শোনায়। ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারা এবং পকসো আইনের অধীনে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।
চলতি বছরের মে মাসে রাজস্থান হাইকোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে পকসো আইনের ধারা খারিজ করলেও, ধর্ষণসহ ভারতীয় দণ্ডবিধির বাকি গুরুতর ধারায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় বহাল রাখে। একইসঙ্গে মামলার দুই সহ-অভিযুক্ত শরদ ও শিল্পীকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে আসারামের সাজা স্থগিত এবং দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিরুদ্ধে করা আবেদনগুলি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।