প্রয়াগরাজে রাহুল গান্ধীর ছাত্রসভায় বড় ধাক্কা! শেষ মুহূর্তে মাঠের অনুমতি বাতিল করল ট্রাস্ট, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) প্রয়াগরাজে (Prayagraj) লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)-র নির্ধারিত এক মেগা ছাত্রসভা ঘিরে তীব্র জটিলতা ও রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে। আগামী ৮ অগস্ট প্রয়াগরাজে আয়োজিত ‘ছাত্রো কি গুঞ্জ’ (ছাত্রদের গর্জন) নামক এই কর্মসূচিতে রাহুল গান্ধীর যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিক দু’দিন আগে সেই অনুষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত মাঠের অনুমতি হঠাৎ করেই প্রত্যাহার করে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট পরিচালন ট্রাস্ট।

কেন বাতিল হলো কেপি গ্রাউন্ডের অনুমতি?
যে ঐতিহাসিক কেপি গ্রাউন্ডে (KP Ground) এই ছাত্রসভা হওয়ার কথা ছিল, তার মালিকানা রয়েছে ‘কায়স্থ পাঠশালা ট্রাস্ট’ নামক একটি সংস্থার হাতে। এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি পুরনো আদেশের কথা উল্লেখ করে তারা শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।

ট্রাস্টের কার্যনির্বাহী সভাপতি জিতেন্দ্র নাথ চৌধুরী জানিয়েছেন যে, ২০২৫ সালের ১৪ অগস্টের একটি নির্দেশিকায় হাইকোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে, কেপি কলেজের এই মাঠটি কেবলমাত্র খেলাধুলা এবং শিক্ষামূলক কার্যকলাপের জন্যই ব্যবহার করা যাবে, এর বাইরে অন্য কোনো রাজনৈতিক বা জনসভার কাজে নয়। এর পাশাপাশি, সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে মাঠে অতিরিক্ত জল জমে যাওয়ায় এটি জনসভার জন্য আদৌ নিরাপদ নয় বলেও দাবি করেছে ট্রাস্ট। এছাড়া কংগ্রেসকে যে প্রাথমিক অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তাতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদনের একটি বাধ্যতামূলক শর্তও জুড়ে দেওয়া ছিল বলে জানিয়েছে তারা।

কংগ্রেসের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও বিজেপির বিরুদ্ধে ‘ভয়ের রাজনীতি’র অভিযোগ
সভার অনুমতি আকস্মিক বাতিলের নেপথ্যে উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের তীব্র রাজনৈতিক চাপ রয়েছে বলে জোরালো অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস। তবে সমস্ত বাধা ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী রাহুল গান্ধীর কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলেই অনড় অবস্থানে রয়েছে দলটি।

এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী প্রশ্ন তুলেছেন, “জানি না ওরা ঠিক কিসের এত ভয় পায়?” অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি অজয় রাই প্রয়াগরাজে গিয়ে সমস্ত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার সময় স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ট্রাস্ট অনুমতি বাতিল করলেও রাহুল গান্ধী আগামী ৮ অগস্ট প্রয়াগরাজে আসবেনই এবং ছাত্রসমাজের মুখোমুখি হবেন। তিনি রাজ্য সরকার ও জেলা প্রশাসনকে অবিলম্বে এই ঐতিহাসিক ছাত্রসভার জন্য একটি বিকল্প ভেন্যু বা মাঠের ব্যবস্থা করার কড়া দাবি জানিয়েছেন।

বিজেপি সরকারকে সরাসরি আক্রমণ করে অজয় রাই বলেন, “বিজেপি রাহুল গান্ধীকে बुरीভাবে ভয় পায়, আর সেই কারণেই রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচি বানচালের ঘৃণ্য চেষ্টা চলছে। কিন্তু অনুমতি দেওয়া হোক বা না হোক, রাহুল গান্ধী আসবেনই।” এদিন তিনি গত ৩০ জুলাই মঞ্জুর হওয়া অনুমতির একটি কপিও সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, এর আগেও কোটা এবং দেরাদুনে রাহুল গান্ধীর নির্ধারিত কর্মসূচির ভেন্যু একইভাবে শেষ মুহূর্তে বাতিল করার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু ছাত্রসমাজের প্রবল আন্দোলনের মুখে প্রশাসন পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল। এখন দেখার, ৮ অগস্টের প্রয়াগের এই ছাত্রসভা নিয়ে জল কতদূরড়ায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *