কর্নাটকের রাজনীতিতে বড় পটপরিবর্তন! সিদ্দারামাইয়াকে সরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হলেন ডিকে শিবকুমার, শুরু নতুন অন্তর্দ্বন্দ্ব

কর্নাটকের কংগ্রেস সরকারের অন্দরের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ বিবাদ কিছুতেই থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও কথার লড়াইয়ের পর অবশেষে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াকে সরিয়ে এবার সেই দায়িত্বে এসেছেন ডিকে শিবকুমার। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সদ্য সম্পন্ন হওয়া মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস শিবিরের অন্দরে প্রবল অসন্তোষ ও বিদ্রোহের আগুন দাউদাউ করে জ্বলে উঠেছে। আর এই ক্ষোভ প্রশমিত করতেই এখন মাঠে নেমে পড়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী সহ শীর্ষ নেতৃত্ব।

ক্ষুব্ধ বিধায়কদের শান্ত করতে মরিয়া হাইকম্যান্ড
সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের জেরে দলের ভেতরে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, তা সামাল দিতে বুধবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার এবং কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা আসরে নামেন। তাঁরা দলের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন অসন্তুষ্ট বিধায়কের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করে তাঁদের ক্ষোভ নিরসনের জোর প্রচেষ্টা চালান।

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, মন্ত্রিসভায় জায়গা না পাওয়া বঞ্চিত বিধায়কদের অনুগামী ও সমর্থকদের লাগাতার প্রতিবাদের মুখেই নড়েচড়ে বসেছে দলের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব। কর্নাটক কংগ্রেসের সভাপতি বি.কে. হরিপ্রসাদ এবং আরও বেশ কয়েকজন নতুন মন্ত্রীও এই অসন্তোষ থামাতে আসরে নেমেছেন। এর আগে গত সোমবার ১৯ জন নতুন মন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করে রাজ্য মন্ত্রিসভা সম্প্রসারিত করা হয়েছিল।

পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার ও ডিকে শিবকুমারের কড়া বার্তা
বিধায়কদের একাংশের এই ক্ষোভ সামাল দেওয়ার চেষ্টা কিছুটা হলেও ফলপ্রসূ হচ্ছে। সর্বভারতীয় জোটের বিধায়ক যশবন্তরয়গৌড়া ভি. পাটিল গত সোমবার বিধানসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেও, বুধবার তিনি বিধানসভার সচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়ে নিজের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে নেন। সূত্র মারফত জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার এবং কয়েকজন মন্ত্রীর বিশেষ অনুরোধেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।

তবে যাঁরা মন্ত্রিত্ব না পেয়ে ক্ষোভে বারবার পদত্যাগের হুমকি দিচ্ছেন, তাঁদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, দল চাইলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করতে পিছপা হবে না। একইসঙ্গে তিনি অসন্তুষ্ট বিধায়কদের ধৈর্য ধরার আর্জি জানিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন যে, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন বোর্ড ও কর্পোরেশনের খালি পদগুলি খুব শীঘ্রই পূরণ করা হবে।

অসন্তোষের তালিকা দীর্ঘতর
এস.আর. শ্রীনিবাস: মন্ত্রী পদ না পাওয়ায় গুব্বির বিধায়ক এস.আর. শ্রীনিবাস গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করলেও ডিকে শিবকুমারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর কিছুটা নরম মনোভাব দেখান। তবে তিনি তাঁর প্রাক্তন দল জেডিএস (JD-S) নেতা এইচ.ডি. কুমারাস্বামীর ভূয়সী প্রশংসা করেন, যিনি অতীতে তাঁকে মন্ত্রী করেছিলেন।

প্রবীণ নেতাদের মন জয়: প্রবীণ বিধায়ক টি.বি. জয়চন্দ্র, বেঙ্গালুরুর বিধায়ক এম. কৃষ্ণাপ্পা এবং প্রিয়া কৃষ্ণকে বাগে আনতে দলের একদল মন্ত্রী তাঁদের বাড়িতে যান। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী ও সুরজেওয়ালা স্বয়ং কৃষ্ণাপ্পার বাড়িতে গিয়ে বাবা-ছেলের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সিদ্দারামাইয়ার ক্ষোভ: মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের সময় হাইকমান্ড তাঁর সুপারিশে কর্ণপাত না করায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াও বেজায় ক্ষুব্ধ বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে বাসবরাজ শিবানান্নাভার এবং গায়ত্রী শান্তেগৌড়াকে মন্ত্রিসভায় জায়গা না দেওয়া এবং উমাশ্রীকে মন্ত্রিত্ব না দিয়ে বিধান পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান পদে দাঁড় করানোয় সিদ্দারামাইয়া শিবির তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

সংঘাতের এই আবহেই হরিপ্রসাদ ও অন্যান্য নেতারা হেকে পাটিল, দীনেশ গুন্ডু রাও এবং টি.বি. জয়চন্দ্রের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কর্নাটক মন্ত্রিসভায় মোট ৩৪ জন মন্ত্রী থাকার বিধান থাকলেও সোমবারের সম্প্রসারণের পরেও একটি পদ খালি রাখা হয়েছে। এখন দেখার, কর্নাটক কংগ্রেসের এই অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ কতটা দ্রুত প্রশমিত করতে পারেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *