ইন্দোরে হাতির পেষণে অটোচালকের মর্মান্তিক মৃত্যু! মাহুত ও সাধুদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ পুলিশের

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের রাজনগর এলাকায় হাতির আকস্মিক আক্রমণে অটোচালক বিজয় রাওয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় বর্তমানে পুলিশ ও বন বিভাগ যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। এই ভয়াবহ ঘটনার পর চন্দন নগর থানা পুলিশ হাতিটির মাহুত এবং তার সঙ্গে থাকা অন্যান্য সাধুদের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর ধারায় এফআইআর দায়ের করেছে। অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের সকলকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে (Judicial Custody) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, হাতিটির নিরাপত্তা ও সঠিক যত্নের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে বন বিভাগ।

বন বিভাগের নজরদারি ও কড়া নির্দেশিকা
ঘটনার পরেই চন্দন নগর পুলিশ হাতিটির নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব চেয়ে বন বিভাগকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়। এরপর বন বিভাগের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতিটির শারীরিক অবস্থা ও চারপাশ পরিদর্শন করে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা জারি করে। যদিও বর্তমানে হাতিটিকে তার মাহুত ও সাধুদের কাছেই রাখা হয়েছে, তবে এর সামগ্রিক সুস্বাস্থ্য ও দেখভালের দায়িত্ব এখন সরাসরি বন বিভাগের হাতেই রয়েছে।

বন বিভাগের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, আদালতে এই সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কোনো অবস্থাতেই হাতিটিকে ইন্দোর শহরের সীমানার বাইরে নিয়ে যাওয়া যাবে না। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হাতিটির খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্য এবং আচরণের ওপর ২৪ ঘণ্টা কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মাহুত ও সাধুরা নিয়মমতো হাতিটিকে খাবার ও জল দিচ্ছেন এবং এটি যাতে কোনোভাবেই মানসিক চাপে বা উত্তেজিত না হয়ে পড়ে, সেদিকেও কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

ঠিক কী কারণে উগ্র হয়ে উঠেছিল হাতিটি? তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য
পুলিশি ও বন বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, কিছুদিন আগে হাতিটিকে একটি সিনেমার শুটিংয়ের জন্য হায়দরাবাদে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। শুটিং শেষ হওয়ার পর ট্রাকযোগে সেটিকে উজ্জয়িনে ফিরিয়ে আনার পথে মহারাষ্ট্রের নান্দেদের কাছে ট্রাকটির টায়ার পাংচার হয়ে যায়।

এরপর হাতিটিকে ট্রাক থেকে নামানো হলেও সেটি আর কোনোভাবেই ট্রাকে উঠতে রাজি হয়নি। বাধ্য হয়ে মাহুত ও সাধুরা হাতিটিকে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে নিয়ে যেতে বাধ্য হন। তদন্তকারীদের ধারণা, সেই দীর্ঘ ক্লান্তিভরা পথ হাঁটা এবং লাগাতার যাতায়াতের ধকলের ফলেই হাতিটি মারাত্মক মানসিক চাপে এবং খিটখিটে মেজাজের হয়ে পড়েছিল।

আকস্মিক সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের অনুমান, ওই ধকলের পর থেকেই হাতিটির আচরণ অত্যন্ত অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল। ঘটনার দিন সেটি হঠাৎ করেই প্রচণ্ড উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এরপর রাস্তায় আচমকাই নিজের শুঁড় দিয়ে অটোচালক বিজয় রাওকে খপ করে ধরে মাটিতে আছড়ে ফেলে এবং পিষে দেয়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই ওই অটোচালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

বর্তমানে পুলিশ এই ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখে বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে। অন্যদিকে বন বিভাগও হাতিটির মানসিক ও শারীরিক আচরণের ওপর অবিরাম নজর রেখে চলেছে। তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে এই বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *