বদলে গেল ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের নাম! নবান্ন থেকে সরাসরি ১০ লক্ষ পরিবারকে টাকা পাঠাবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমানার অত্যন্ত চর্চিত ‘বাংলার বাড়ি’ (Banglar Bari) প্রকল্পের নাম পাকাপাকিভাবে বদলে ফেলা হলো। এই প্রকল্পের নতুন নাম হতে চলেছে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ (Paschim Banga Awas)। আগামিকাল, বৃহস্পতিবার নবান্ন সভাঘর থেকে সরাসরি এই নতুন নামাঙ্কিত প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের ১০ লক্ষ উপভোক্তা পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাঠানোর মেগা প্রক্রিয়া শুরু করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ও সমীক্ষার শর্ত
পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এই প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে মোট ১৮ লক্ষ পরিবারকে বাড়ি তৈরির জন্য আর্থিক অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এই প্রকল্পে বাড়ি তৈরির জন্য মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়, যার মধ্যে ভোটের আগেই প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের কারণে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা বকেয়া ছিল। এবার নতুন সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর যাচাই ও সমীক্ষার পর যোগ্য উপভোক্তাদের এই টাকা দেওয়া হচ্ছে।

নবান্ন সূত্রে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’র নাম পরিবর্তন করে তৎকালীন সরকার ‘বাংলার বাড়ি’ করেছিল। এই খাতে সম্পূর্ণ অর্থ অর্থাৎ ১৬ আনাই রাজ্য সরকার দিয়ে থাকে, ফলে দ্বিতীয় কিস্তির টাকাও বর্তমান রাজ্য সরকারকেই বহন করতে হচ্ছে এবং এতে কেন্দ্রের কোনো আর্থিক অংশীদারিত্ব নেই।

কাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে টাকা?
প্রশাসনের কড়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রকল্পের নিয়ম মেনেই স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে—

যে সমস্ত পরিবার প্রথম কিস্তির টাকায় ইতিমধ্যেই বাড়ির লিন্টন (Lintel) স্তর পর্যন্ত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছেন, কেবল তাঁদেরই দ্বিতীয় কিস্তির টাকার জন্য যোগ্য বলে গণ্য করা হয়েছে।

অন্যদিকে, যে প্রায় ৮ লক্ষ পরিবার এখনও লিন্টন স্তরের কাজ শেষ করতে পারেননি, তাঁদের নির্দিষ্ট স্তর পর্যন্ত কাজ শেষ করার পর পুনরায় নতুন করে সমীক্ষা চালানো হবে।

সেই সমীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসার পরেই পরবর্তী ধাপে তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাবে নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশে সম্পূর্ণ নিখুঁত স্ক্রুটিনি বা যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরেই এই সরকারি অনুদান বরাদ্দ করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *