ব্যস্ত জিটি রোডের মাঝে হঠাৎ হাজির খোদ যমরাজ! কার্জনগেটে পথ আটকে কী করছেন তিনি?

বুধবার বিকেলে ব্যস্ত জিটি রোডের মাঝখানে হঠাৎই দেখা মিলল খোদ যমরাজের! বর্ধমানের কার্জনগেটের কাছে হঠাৎ রাস্তা আটকে দাঁড়ালেন তিনি। সেই চেনা দশাসই ভয়ঙ্কর চেহারা, পাকানো পুরুষ্টু গোঁফ, মাথায় জোড়া শিং আর হাতে এক পেল্লাই গদা—সবমিলিয়ে এক লহমায় থমকে গেল ব্যস্ত শহরের যান চলাচল। কিন্তু হঠাৎ মর্ত্যে যমরাজের এই আবির্ভাব কেন?
কী ঘটছে জিটি রোডে?
মূলত পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ উপলক্ষে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতেই এই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ। তবে যমরাজ একা নন, তাঁর সঙ্গে ছিলেন দাবাং অফিসার ট্রাফিক ওসি চিন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অন্যান্য ট্রাফিক পুলিশ ও সিভিক ভলেন্টিয়াররা। রাস্তায় কেউ হেলমেট না পরে বাইক চালালে কিংবা এক বাইকে তিনজন চড়ে থাকলে, সরাসরি তাদের পথ আটকে দাঁড়াচ্ছেন খোদ যমরাজ। আর তারপরই শুরু হচ্ছে তাঁর সেই জমজমাট হুঙ্কার!
বাইকচালকদের কী বলছেন যমরাজ?
বাজখাই গলায় বাইক আটকে যমরাজ ধমকের সুরে বলছেন,
“কী ব্যাপার? হেলমেট নেই কেন মাথায়? আমার কাছে আসার এত তাড়া কেন? নিজে বাঁচুন, অন্যকে বাঁচতে দিন। একশো বছর বাঁচুন, তারপর তো আমি আছিই!”
এরপর তাঁর সেই চেনা কায়দায় ‘হু হা হা’ করে হাসি ও হুঙ্কার শুনে থমকে যাচ্ছেন চালকরা। শুধু বাইক বা স্কুটিই নয়, কানে হেডফোন লাগিয়ে গাড়ি চালানো কিংবা অন্য যে কোনো ট্রাফিক আইন ভাঙলে চারচাকা চালকদেরও একইভাবে আটকে সতর্ক করা হচ্ছে।
মাঝরাস্তায় যমরাজের এমন রূপ দেখতে স্বভাবতই সাধারণ মানুষের ভিড় জমে যায়। এই অভিনব চরিত্রে অভিনয় করছেন ট্রাফিক পুলিশেরই কর্মী সন্তোষ শর্মা। দীর্ঘদিন ধরে এই পেশায় থেকে চোখের সামনে বহু দুর্ঘটনা দেখেছেন তিনি। তাই বিভাগীয় নির্দেশেই এই অভিনব পথনাটিকা বা প্রচারের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করার দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।
কী বলছেন সাধারণ মানুষ?
প্রশাসনের এই অভিনব প্রচার দেখে অবাক হলেও বেজায় খুশি আমজনতা। ভুল বুঝতে পেরে অনেকে বলছেন, “ভুল হয়ে গিয়েছে, এবার থেকে আর নিয়ম ভাঙব না।” আর দয়ালু যমরাজও তখন আশীর্বাদের সুরে বলে উঠছেন, “তথাস্তু! এবারকার মতো ছেড়ে দিলাম, তবে মনে থাকে যেন!”