সীমান্তে ২০ হাজার টাকা তোলা না দিলে ঢোকে না কৃষকদের যন্ত্র! পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ

তোলাবাজি ইস্যুতে এবার সরাসরি রাজ্যের পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। ভিন রাজ্য থেকে এ রাজ্যে কৃষকদের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজের যন্ত্রপাতি ঢোকার মুখে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত তোলা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। বুধবার ‘বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সরাসরি এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সুর চড়ান রাজ্যের কৃষি বিপণন মন্ত্রী।
ঠিক কী অভিযোগ করেছেন মন্ত্রী?
কৃষকদের কৃষি যন্ত্রপাতি সীমান্ত দিয়ে রাজ্যে প্রবেশ করানো নিয়ে মুখ খুলে দিলীপ ঘোষ বলেন, ভিন রাজ্য থেকে কৃষকদের জন্য আসা বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এ রাজ্যে ঢোকার মুখে রীতিমতো তোলাবাজির শিকার হচ্ছে। সীমান্ত পার করতে হলে গাড়িপ্রতি ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত তোলা দিতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। মন্ত্রীর বিস্ফোরক অভিযোগ, পুলিশ প্রশাসন সামনে দাঁড়িয়ে থেকে এই টাকা তুলছে এবং তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন এজেন্সির দালালরাও সমানভাবে সক্রিয় রয়েছে।
এর ফলে কী পরিণতি হচ্ছে? এই প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানান, তোলার টাকার খপ্পরে পড়ে কৃষকদের কাছে সার থেকে শুরু করে হারভেস্টিং মেশিনের মতো জরুরি যন্ত্রপাতি হয় অতিরিক্ত চড়া দামে পৌঁছচ্ছে, অথবা অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছতেই পারছে না।
‘বাংলা সীমান্তে নো এন্ট্রি বোর্ড লেগে গিয়েছে’
অনুষ্ঠান মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “রাজ্যের একাংশের যেন এই রোগ সারতেই চাইছে না! তোলাবাজির কারণে কৃষকরা আজ জর্জরিত। বাংলা সীমান্তে যেন অলিখিত ‘নো এন্ট্রি’ বোর্ড টাঙানো রয়েছে। তোলার টাকা না দিলে এ রাজ্যে কোনো গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হবে না।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষ এই সমস্ত দুর্নীতির হাত থেকে মুক্তি পেতেই পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে।
কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি
যদিও অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রবীণ এই মন্ত্রী আরও স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি জানান, রাজ্য সীমান্তগুলিতে ঠিক কারা কারা দাঁড়িয়ে এই অবৈধ তোলাবাজি চালাচ্ছে, তাদের প্রত্যেককে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানুষের স্বার্থ যারা এইভাবে বিপন্ন করবে, বর্তমান সরকার তাদের কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী।