বিদেশ যাবেন কেন? অভিষেকের চোখের চিকিৎসার জন্য ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালুর কথা বলে চরম কটাক্ষ অগ্নিমিত্রার!

চোখের উন্নত চিকিৎসায় বিদেশ যেতে চেয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তবে শীর্ষ আদালত সেই মামলা ফেরত পাঠায় কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। সম্প্রতি মামলার শুনানির সময় বিচারপতি স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ দেন যে, এই চিকিৎসার জন্য এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালেই চোখ দেখাতে হবে তৃণমূল সাংসদকে। যদিও এসএসকেএম-এ চিকিৎসা করাতে নারাজ অভিষেক। আর এই পুরো প্রসঙ্গেই তৃণমূল সাংসদের বিদেশ যাওয়ার আর্জিকে তীব্র কটাক্ষ ও বিদ্রূপবাণে বিদ্ধ করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর সরাসরি পরামর্শ, অভিষেককে তাঁদের সরকার ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের আওতায় যথাযথ স্বাস্থ্য পরিষেবা দিয়ে দেবে।
আদালতের রায় ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে তোপ
আদালতের এই নির্দেশকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “আদালত বাংলার সাধারণ মানুষের প্রকৃত পরিস্থিতি বুঝতে পেরেছে।” এরপর বিগত তৃণমূল সরকারের আমলের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, “আজ স্বাস্থ্যসাথী কার্ড করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, চারিদিকে সাদা-নীল রঙের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে তুলেছেন। যদি বাংলার ১১ কোটি মানুষ সেই সরকারি পরিকাঠামোয় চিকিৎসা করাতে পারেন, তবে যুবরাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন বিদেশ যাবেন? চিকিৎসা করাতে পারবেন না কেন?”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “যেখানে সাধারণ মানুষ একটা বিছানায় দুই-তিনজন রোগী রেখে চিকিৎসা করাচ্ছেন এবং পনেরো বছরেও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি, সাধারণ মানুষ যখন ঠিকমতো ওষুধটুকুও পাচ্ছেন না—তখন আপনি সব সেরে বিদেশে চিকিৎসা করাতে চলে যাবেন? তা কখনও হতে পারে না।”
‘সিঙ্গল বেড ও আয়ুষ্মান ভারতের’ খোঁচা
এরপর কার্যত চরম ব্যঙ্গ করে অগ্নিমিত্রা বলেন, “আমরা আপনার জন্য ‘আয়ুষ্মান ভারত’ কার্ডের ব্যবস্থা করে দেব এবং সিঙ্গেল বেডের বন্দোবস্ত করে দেব, কাউকে সেই বেড শেয়ারও করতে হবে না। আর আমাদের এখানকার চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি ডাক্তার অ্যালোপ্যাথি ওষুধ দিয়ে পা কেটে ফেলার মতো ঘটনাও অন্তত আপনার ক্ষেত্রে ঘটবে না!”
উল্লেখ্য, বুধবার এই মামলার শুনানির সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন যে, যেহেতু অভিষেকের বিরুদ্ধে একাধিক আইনি মামলা ঝুলছে, সেই কারণেই এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিচারপতি আরও উল্লেখ করেন, আজকের দিনে চিকিৎসার ক্ষেত্রে দেশ বা বিদেশ খুব একটা বড় ফারাক গড়ে দেয় না। পরবর্তীতে এই মামলাটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।