“২০২৪-এর আন্দোলন কোনো ছাত্র আন্দোলন ছিল না!” নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে বিস্ফোরক শেখ হাসিনা

বাংলাদেশ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার দু’বছর পূর্ণ হওয়ার দিনে ফের একবার চরম রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ালেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নয়াদিল্লির ‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া’ (Foreign Correspondents Club of South Asia)-র পক্ষ থেকে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠকে সরাসরি আন্তর্জাতিক মিডিয়ার মুখোমুখি হন তিনি। সেখানে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে তাঁর आगामी রাজনৈতিক পদক্ষেপ—সব বিষয়েই কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেন শেখ হাসিনা।

ডিসেম্বরে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা: সাংবাদিক বৈঠকে শেখ হাসিনা স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন যে, সমস্ত ঝুঁকি মাথায় নিয়েও তিনি চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসেই বাংলাদেশে ফিরে আসার পরিকল্পনা করছেন। নিজের জীবনের ওপর চরম ঝুঁকি ও গ্রেফতারি বা মৃত্যুদণ্ডের খাঁড়া ঝুলে থাকার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, “আমি জানি তারা আমাকে জেলে ঢোকাতে পারে, এমনকি হত্যাও করতে পারে। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমি নিজ দেশে ফিরব, কারণ আমার নিজের জনগণ আজ ডাকছে।” তিনি আরও জানান, ১৯৫৪ বা ১৯৮১ সালের মতো অতীতেও তাঁকে বহুবার বাধা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো বাধাই তাঁকে মাতৃভূমি থেকে দূরে রাখতে পারেনি।

২০২৪-এর আন্দোলন নিয়ে বিস্ফোরক দাবি: বাংলাদেশের তৎকালীন রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ছাত্র আন্দোলন প্রসঙ্গে হাসিনা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সেই আন্দোলন আদতে কোনো শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না। তাঁর অভিযোগ, কোটা সংস্কারের মতো একটি সাধারণ ও সরল দাবিকে সুপরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয় এবং কিছু উগ্র ও সংগঠিত গোষ্ঠী ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে দেশজুড়ে হিংসা ও সরকার পতনের ষড়যন্ত্র চালিয়েছিল।

আওয়ামী লীগের অবস্থান ও দলের দাবি: এদিনের এই ভার্চুয়াল বৈঠকে শেখ হাসিনার পাশাপাশি তাঁর দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাও যুক্ত ছিলেন। শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে দাবি জানানো হয়েছে যে, দলটির ওপর থেকে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে তুলে নিতে হবে, সমস্ত রাজনৈতিক বন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে দেশে অবিলম্বে বাকস্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে হবে।

এদিকে, নয়াদিল্লির এই সাংবাদিক বৈঠকের বিষয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই এবং এই মঞ্চ থেকে উঠে আসা কোনো বক্তব্যের দায়ও দিল্লি বহন করে না। তবে ডিসেম্বরে হাসিনার এই সম্ভাব্য ‘হোমকামিং’ বা স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা যে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এক বিশাল বড়ো ঝড় তুলতে চলেছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *