‘রাজনীতিতে আসার কোনো ইচ্ছা নেই!’ সিজেপির বৈঠক থেকে বিস্ফোরক মন্তব্য প্রধান অভিজিৎ দীপকের

মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (CJP)-র দুই দিনব্যাপী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোর কমিটির বৈঠক। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রথম দিনেই সংগঠনের প্রধান অভিজিৎ দীপকে এবং মুখপাত্র সৌরভ দাস সাংবাদিক বৈঠকে মিলিত হয়ে সংগঠনের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ কৌশল, ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলন এবং দেশজুড়ে সংগঠন সম্প্রসারণের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

ঝাড়খণ্ড ছাত্র আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন সিজেপির
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে CJP প্রধান অভিজিৎ দীপকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন যে, তাদের সংগঠন ঝাড়খণ্ডের চলমান ছাত্র আন্দোলনকে সর্বাত্মক সমর্থন জানায়। শুধু তাই নয়, আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়াতে এবং সংহতি প্রকাশ করতে সংগঠনের পক্ষ থেকে খুব শীঘ্রই একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঝাড়খণ্ডে পাঠানো হবে। এছাড়া এই বৈঠকে দেশজুড়ে সংগঠনের শিকড় মজবুত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

রাজনীতিতে প্রবেশের জল্পনা উড়িয়ে দিলেন প্রধান
সরাসরি রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা রয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে অভিজিৎ দীপকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, সিজেপির আপাতত সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশের কোনো পরিকল্পনা বা সদিচ্ছা নেই। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, আজকের দিনে রাজনৈতিক দলগুলির অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যেভাবে বিধায়ক ও সাংসদরা ঘনঘন দলবদল করছেন এবং ইডি (ED) বা সিবিআই (CBI)-এর মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক দল ভাঙার খেলা চলছে, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে সমস্ত রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পাশাপাশি তিনি জানান, রবিবারের এই বৈঠকে গণমাধ্যম, বিচার বিভাগ, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং বিতর্কিত ‘ই-২০ নীতি’ (E-20 Policy)-র মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুগুলি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হচ্ছে। তবে বৈঠকে বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক অসুস্থতার কারণে উপস্থিত থাকতে পারেননি বলে জানান তিনি। বৈঠকের দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ আজ দুপুর ২টায় সংগঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা সর্বসমক্ষে ঘোষণা করা হবে।

ছাত্র আন্দোলন, লাঠিচার্জ ও এফআইআর প্রত্যাহার নিয়ে সরব মুখপাত্র
সাংবাদিক বৈঠকে সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশের দমনপীড়নের তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন, বিক্ষোভ চলাকালীন যে সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে লাঠিচার্জ করা হয়েছিল এবং পেলেট গান (Pellet Gun) ব্যবহার করা হয়েছিল, সেই সমস্ত পুলিশ আধিকারিকদের অবিলম্বে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

সৌরভ দাস আরও দাবি করেন যে, আন্দোলনের শুরু অর্থাৎ প্রথম দিন থেকেই আহত পড়ুয়াদের আইনি ও চিকিৎসার সমস্ত রকম সহায়তা দিয়ে আসছে সিজেপি। শুধু দিল্লি নয়, দেশের যে যে রাজ্যে ছাত্র বিক্ষোভ হয়েছে, সব জায়গাতেই আন্দোলনকারীদের পাশে রয়েছে সংগঠনটি। সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে লাগাতার আলোচনার ফলেই বহু রাজ্যে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মিথ্যে এফআইআর প্রত্যাহার করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকি মামলাগুলি তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানান তিনি।

‘ডক্সিং ক্যাম্পেইন’ নিয়ে কড়া হুংকার
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে চলা অনলাইন হেনস্থা বা ‘ডক্সিং ক্যাম্পেইন’ (Doxxing Campaign)-এর তীব্র সমালোচনা করেন সৌরভ দাস। তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এই ধরনের ডক্সিং বা ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করার ক্যাম্পেইন সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এর নেপথ্যে বিজেপি ও আরএসএস-এর সমর্থকরা জড়িত রয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সিজেপি। এছাড়া সোনম ওয়াংচুক যে এই সংগঠনের প্রধান পরামর্শদাতা বা গাইড হিসেবে অতীতেও পাশে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও তাঁর দিকনির্দেশনা নিয়েই দল চলবে, সে কথাও স্পষ্ট করে দেন সিজেপির মুখপাত্র।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *