ভাড়া ঘর থেকে উদ্ধার তরুণী নৃত্যশিল্পীর ঝুলন্ত দেহ! উত্তরপ্রদেশ থেকে এসে মুজফ্ফপুরে কী ঘটেছিল?

মঙ্গলবার বিহারের মুজফ্ফপুর জেলার নগর থানার অন্তর্গত চতুরভুজ স্থান রেড-লাইট এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার জেরে চরম চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয় একটি ভাড়া করা ঘর থেকে সারিকা পাল ওরফে মুসকান (২২) নামের এক তরুণী নৃত্যশিল্পীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতার বাড়ি উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে হলেও, তিনি গত পাঁচ বছর ধরে মুজফ্ফপুরেই নৃত্যশিল্পী হিসেবে বসবাস করছিলেন।
কীভাবে প্রকাশ্যে এল ঘটনাটি?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুসকান গত এক মাস ধরে রুকসানা নামের এক মহিলার বাড়ির দোতলার একটি ঘরে একা ভাড়া থাকতেন। প্রতিদিনের মতো সেদিনও দুপুরের মধ্যে তাঁর নিচে নেমে আসার কথা ছিল। কিন্তু দুপুর প্রায় ১২টা বেজে গেলেও তাঁর ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় সন্দেহ হয়। নিচের তলার এক মহিলা ভাড়াটে তাঁকে ডাকতে যান। অনেক ডাকাডাকি ও জোরে ধাক্কা দেওয়ার পর আচমকাই ঘরের দরজা খুলে যায়। আর তখনই ঘরের ভেতরে ঝুলন্ত দেহ দেখতে পেয়ে আঁতকে ওঠেন ওই মহিলা।
পুলিশের তদন্ত ও ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ
ওই মহিলার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেন। খবর পাওয়া মাত্রই নগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য এসকেএমসিএইচ (SKMCH)-এ পাঠিয়ে দেয়।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ফরেনসিক ল্যাবরেটরি (FSL) টিমকে তলব করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ব্যবহৃত স্কার্ফ, মৃতার মোবাইল ফোন এবং সিগারেটের অবশিষ্টাংশসহ বেশ কিছু নমুনা ও প্রমাণ সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে এফএসএল টিম। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, লখনউয়ের বাসিন্দা ওই নৃত্যশিল্পী রামবাগ এলাকার এক যুবকের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন এবং ওই যুবকের প্রায়ই তাঁর ঘরে যাতায়াত ছিল। এই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশের বক্তব্য
এই বিষয়ে সিটি এএসপি সুরেশ কুমার জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তবে মৃত্যুর আসল কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কি না, তা জানতে প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।