‘এসএসকেএমে চোখ দেখান,’ হাইকোর্টের কড়া নির্দেশেই বড় ধাক্কা খেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়!

প্রথমে কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ এবং সেখান থেকে অনুমতি না পেয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়া—সবমিলিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রার আবেদন ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি পারদ চড়েছিল তুঙ্গে। সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি পুনরায় কলকাতা হাইকোর্টে ফেরত পাঠিয়ে সাত দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিলেও, শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টে এসে বড় ধাক্কা খেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে শুনানির পর তিনি নিজেই আবেদন প্রত্যাহার করে নেন, ফলে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।
হাইকোর্টে কী পর্যবেক্ষণ ছিল আদালতের?
গত ২০ জুলাই অভিষেকের বিদেশযাত্রার আবেদন নিয়ে বিচারপতির স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ ছিল:
আদালতের বক্তব্য ছিল, চোখের যে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়া প্রয়োজন, তা কি কলকাতার কোনো হাসপাতালে করা সম্ভব নয়?
বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কি কখনও এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে গিয়েছেন? আদালত নির্দেশ দেয় যে চিকিৎসকদের একটি বোর্ড গঠন করা হোক। সেই মেডিক্যাল বোর্ড যদি মনে করে যে সত্যিই এখানকার পরিকাঠামোয় চোখের এই চিকিৎসা সম্ভব নয় এবং বিদেশযাত্রা জরুরি, তবেই আদালত অনুমতি দিতে পারে।
তবে এসএসকেএম হাসপাতালে চোখ দেখাতে নারাজ ছিলেন অভিষেক। আর সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত মামলাটি আর এগিয়ে নিয়ে না গিয়ে তিনি আবেদন প্রত্যাহার করে নিতে চান, যার ভিত্তিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মামলাটি খারিজ করে দেন।
আইনি লড়াইয়ের সংক্ষিপ্ত পথ
সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশ: বিদেশযাত্রার অনুমতি চেয়ে প্রথমে সিঙ্গেল বেঞ্চে আবেদন করা হলেও এসএসকেএম-এ চিকিৎসার শর্ত দেওয়ায় সেই আবেদন খারিজ হয়।
সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ: সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে না গিয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে যান অভিষেক। গত ৩ অগস্ট সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে শুনানি হয়।
হাইকোর্টে ফের ফেরত: শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয় যে এই মামলার শুনানি হাইকোর্টেই হবে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেই নির্দেশ মতোই বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে শুনানি হলেও শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াই থেকে পিছু হটে মামলা তুলে নেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।