আজই চাঁদের বুকে আছড়ে পড়বে ইলন মাস্কের স্পেসএক্স রকেট! পৃথিবী থেকে দেখা যাবে আলোর ঝলকানি?

আজ চাঁদের মাটিতে আছড়ে পড়তে চলেছে একটি পরিত্যক্ত রকেট। আর কিছু ক্ষণের মধ্যেই চাঁদের বুকে আছড়ে পড়তে চলা এই রকেটের সংঘর্ষের মুহূর্তে এক ঝলকানি দেখা যেতে পারে পৃথিবী থেকেও। বিজ্ঞানীদের অনুমান, রকেটটি আছড়ে পড়লে চাঁদের বুকে একটি নতুন ও বিশাল গহ্বরের সৃষ্টি হবে।
কোন রকেট আছড়ে পড়ছে চাঁদে?
বিশ্বের অন্যতম ধনকুবের ইলন মাস্কের বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স (SpaceX)-এর একটি রকেট দীর্ঘদিন ধরে মহাকাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল। এবার সেই ফ্যালকন ৯ (Falcon 9) রকেটের একটি অংশই আছড়ে পড়তে চলেছে চাঁদের বুকে। উত্তর এবং দক্ষিণ আমেরিকার বিজ্ঞানীরা টেলিস্কোপে চোখ রেখে এই বিস্ফোরণের মুহূর্ত ও আলোর ঝলকানি দেখার প্রস্তুতি নিয়েছেন। তবে চাঁদের নিজস্ব কোনো বায়ুমণ্ডল না থাকায় সেখানে আগুনের বদলে মূলত ধুলোর বিশাল মেঘ তৈরি হবে।
কখন ঘটবে এই সংঘর্ষ?
ইস্টার্ন টাইম অনুযায়ী: ৫ অগাস্ট বুধবার গভীর রাতে, ২টো বেজে ৩৫ মিনিটে চাঁদের বুকে আছড়ে পড়বে রকেটের ওই অংশটি।
ভারতীয় সময় অনুযায়ী: ঠিক আজ, অর্থাৎ বুধবার দুপুর ১২টা বেজে ৫ মিনিটে এই সংঘর্ষ ঘটবে।
এই মুহূর্তে বিশ্বের তাবড় বিজ্ঞানীরা চাঁদের দিকেই শক্তিশালী টেলিস্কোপ তাক করে বসে রয়েছেন।
রকেটের আকার ও গতিবেগ কেমন থাকবে?
জানা গেছে, ফ্যালকন ৯ রকেটের যে অংশটি চাঁদের বুকে আছড়ে পড়তে চলেছে, তার আকার প্রায় একটি ট্রাকের সমান। প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালে দুটি বেসরকারি ল্যান্ডারকে চাঁদের কক্ষপথে পাঠানো হয়েছিল, যার মধ্যে একটির উপরিভাগের অংশ মহাকাশে পরিত্যক্ত হিসেবে রয়ে গিয়েছিল। সেটিই চাঁদের ‘আইনস্টাইন গহ্বরে’র কাছাকাছি এলাকায় আছড়ে পড়তে চলেছে।
বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, চাঁদের মাটিতে আছড়ে পড়ার সময় রকেটের ওই অংশের গতিবেগ থাকবে প্রতি ঘণ্টায় ৮,৭৪৮ কিলোমিটার। পৃথিবীর সাপেক্ষে এই গতিবেগ অনেক বেশি মনে হলেও, চাঁদের বুকে সাধারণত গ্রহাণু আছড়ে পড়ার গতি এর চেয়ে প্রায় ছ’গুণ বেশি হয়ে থাকে। রকেটটি আছড়ে পড়ার ফলে বিস্ফোরণ ঘটবে ঠিকই, তবে পৃথিবী থেকে শনি গ্রহকে যেমন দেখায়, তার চেয়ে আলোর ঝলকানির ঔজ্জ্বল্য প্রায় ২০ শতাংশ কম হবে।
চাঁদে কেমন প্রভাব পড়বে?
বিজ্ঞানীদের অনুমান, রকেটের এই ধাক্কায় চাঁদের বুকে যে নতুন গহ্বরটি তৈরি হবে, তার আয়তন হবে প্রায় ৯০ ফুট এবং গভীরতা হবে ১৬ ফুট। এত ছোট গহ্বর খালি চোখে বা পৃথিবী থেকে সরাসরি দেখা সম্ভব না হলেও, এক সেকেন্ডেরও কম সময়ের জন্য বিস্ফোরণের ঝলকানি ধরা পড়তে পারে। তবে বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট ধূলিকণা এবং গ্যাসের মেঘ চন্দ্রপৃষ্ঠে অনেক বেশি সময় ধরে (প্রায় ৪০০ সেকেন্ড বা ৭ মিনিট) স্থায়ী হবে, যা শক্তিশালী টেলিস্কোপের সাহায্যে পৃথিবী থেকে পর্যবেক্ষণ করা যাবে।