কলকাতায় কি হু হু করে বাড়ছে বাসভাড়া? ন্যূনতম ভাড়ার দাবিতে যা প্রস্তাব দিল বাস মালিক সংগঠন!

কলকাতায় বেসরকারি বাসে যাতায়াতের খরচ (Bus Fare) এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়তে পারে। দীর্ঘ আট বছর ধরে বাসভাড়ায় কোনও ধরনের সংশোধন বা পরিবর্তন না হওয়ায় এবার ন্যূনতম ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন বাস মালিক ও অপারেটররা। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, বর্তমান আকাশছোঁয়া ব্যয়ভার সামাল দেওয়ার জন্য ২০১৮ সালের পুরনো ভাড়ার কাঠামো আর কোনওভাবেই কার্যকর নয়। তাই ভাড়া পুনর্নির্ধারণের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের কাছে বিশেষ আর্থিক সহায়তার আবেদনও জানানো হয়েছে।

কেন ভাড়া বাড়ানোর দাবি তুলছেন বাস মালিকরা?
আয় কমে যাওয়ার সংকট: জয়েন্ট কাউন্সিল অব বাস সিন্ডিকেটের সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াত চালু হওয়ার পর থেকেই বেসরকারি বাসে যাত্রী সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে আয়ের উৎস সংকুচিত হওয়ায় বাস মালিকদের আর্থিক চাপ বহুগুণ বেড়েছে।

skyrocketing পরিচালন খরচ: বাস মালিক সংগঠনের দাবি, ২০১৮ সালের পর থেকে বাসের ন্যূনতম ভাড়া এক জায়গায় আটকে থাকলেও এই দীর্ঘ সময়ে ডিজেলের দাম, যন্ত্রাংশের মূল্য, বিমা এবং দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় লাগাতার বেড়ে চলেছে।

রাস্তায় বাসের সংখ্যা হ্রাস: পরিসংখ্যান বলছে, করোনা মহামারির আগে কলকাতার রাস্তায় যেখানে প্রায় ৬,০০০ বেসরকারি বাস নিয়মিত চলাচল করত, বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে প্রায় ৩,৫০০-তে নেমে এসেছে। শহরের গণপরিবহণে বেসরকারি বাসের উপস্থিতি কমার পাশাপাশি একাধিক রুটে বাস চালানো এখন মালিকদের কাছে লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কী দাবি করা হয়েছে বাস মালিক সংগঠনের পক্ষ থেকে?
বর্তমান পরিস্থিতিতে কলকাতার ন্যূনতম ৮ টাকার বাসভাড়া বাড়িয়ে সরাসরি ২০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন বাস মালিকরা। এই প্রসঙ্গে তপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,

“বর্তমানে চালু থাকা বাসভাড়া লাগু করা হয়েছিল ২০১৮ সালে। গত ৮ বছরে ভাড়ায় কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। ২০১৮ সালের ভাড়া নিয়ে আমরা ২০২৬ সালে বাঁচব কী করে? এখন ফের ভাড়া সংশোধন করার সময় এসেছে। একমাত্র তবেই সমস্যার কিছুটা মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।”

শুধু বাসভাড়া বৃদ্ধিই নয়, এর পাশাপাশি রাজ্য সরকারের কাছে আরও একটি আর্থিক স্বস্তির আর্জি জানিয়েছে বাস মালিক সংগঠন। তাঁদের দাবি, গাড়ি ও বাহন-সংক্রান্ত সমস্ত বকেয়া জরিমানা এককালীন মুকুব (One-time waiver) করা হোক, যাতে মাথার ওপর থেকে ঋণের ও ক্ষতির বোঝা কিছুটা হলেও হালকা হয়।

পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবিদাওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আবেদন জানিয়েছেন বাস অপারেটরদের প্রতিনিধিরা। এখন দেখার বিষয়, বাসভাড়া সংশোধনের এই জোরালো প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারের সবুজ সংকেত মিললে বহু বছর পর কলকাতার বেসরকারি বাসভাড়ায় এক বিরাট পরিবর্তন আসতে পারে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে প্রতিদিন যাতায়াত করা লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের পকেটেও।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *