শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে হাইভোল্টেজ বৈঠক! এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে কী কথা হলো?

গত জুনে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলে ভাঙন ধরার সময়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনের এক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে পরবর্তী সময়ে গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই (NCPI)-তে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, দেব, ইউসুফ পাঠান কিংবা রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়দের যোগদান এবং দলটির আনুষ্ঠানিকভাবে এনডিএ জোটভুক্ত হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের পৃথক ভাবে আর পূর্ণাঙ্গ বৈঠক হয়নি। অবশেষে মঙ্গলবার দিল্লির বঙ্গভবনে এনসিপিআই-এর সাংসদদের সঙ্গে সেই বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকটি সেরে ফেললেন মুখ্যমন্ত্রী।

বৈঠকে কী বললেন তারকারা ও অন্যান্য সাংসদরা?
যদিও এর আগে নবান্নে গিয়ে পৃথক ভাবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এসেছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদার, তবে মঙ্গলবারই প্রথমবার দলবদ্ধ ভাবে এনসিপিআই সাংসদরা মুখ্যমন্ত্রীর মুখোমুখি হলেন। বৈঠক শেষে নিজ নিজ লোকসভা কেন্দ্রের উন্নয়নমূলক রণকৌশল নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাংসদরা।

রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া: বৈঠক শেষে হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “এটি দীর্ঘ দিন ধরে বকেয়া থাকা একটি বৈঠক ছিল, যা আজ সম্পন্ন হল। নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব, তা নিয়ে আমাদের মনের মধ্যে একগুচ্ছ প্রশ্ন ছিল। মুখ্যমন্ত্রী যে ভাবে আমাদের দিকনির্দেশ করেছেন, পরামর্শ দিয়েছেন এবং আগামী দিনের কর্মসূচি নির্ধারণ করে দিয়েছেন, তাতে আমরা ভীষণ খুশি।”

ঘরছাড়াদের জন্য অভয়বানী: এলাকায় রাজনৈতিক কারণে ঘরছাড়া সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীদের বিষয়ে রচনা জানান, “কোনও মানুষ যাতে কষ্টে না থাকেন এবং এলাকা ছেড়ে না থাকেন, সে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। উনি আমাদের বলেছেন, মানুষকে নির্দ্বিধায় এবং ভয় না পেয়ে এগিয়ে যেতে বলতে। মানুষের পাশে থাকতে বলেছেন এবং স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, রাজ্য সরকার তাঁদের পাশেই রয়েছে।”

বাপী হালদারের বক্তব্য: সাংসদ বাপী হালদার জানান, এলাকার কোনও যোগ্য মানুষ সরকারি সামাজিক সুরক্ষা বা প্রকল্পের সুবিধা থেকে যাতে বাদ না পড়েন, তা সাংসদেরা সরাসরি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। এনসিপিআই এবং এনডিএ জোট নিয়ে রাজনৈতিক অন্দরে ছড়িয়ে থাকা সমস্ত বিভ্রান্তি উড়িয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, সব সাংসদ শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেই আছেন এবং আগামী দিনেও থাকবেন।

জুন মালিয়ার মূল্যায়ন: বৈঠকটিকে “অত্যন্ত সফল ও গঠনমূলক” বলে উল্লেখ করে সাংসদ জুন মালিয়া জানান, নিজ নিজ এলাকার কাজ এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে রাজ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে সহায়তার পূর্ণ আশ্বাস মিলেছে।

সুখেন্দুশেখর রায়ের মন্তব্য: তবে বৈঠক প্রসঙ্গে খানিকটা মেপে পদক্ষেপ করতে দেখা যায় রাজ্যসভার প্রবীণ সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়কে। নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে বৈঠকটিকে নিতান্তই একটি ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলে দাবি করে তিনি জানান, বৈঠকে মূলত লোকসভা ও রাজ্যসভা কেন্দ্রগুলির উন্নয়নমূলক কাজের রূপরেখা নিয়েই বিস্তারিত চর্চা হয়েছে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *