দিঘায় শাড়ি-সালোয়ার পরে সমুদ্রে নামা নিষেধ? কোন পোশাকের পরামর্শ দিলেন মন্ত্রী?

দিঘার সমুদ্রে শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ পরে নামা একেবারেই নিরাপদ নয়। সম্প্রতি এই মর্মে একটি বড় মন্তব্য করেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ঢেউয়ের টানে ঐতিহ্যবাহী পোশাক শরীরে বা পায়ে জড়িয়ে গিয়ে প্রায়শই মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে। তাই পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই ‘ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ’ উপযুক্ত স্নানের পোশাক পরার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে দিঘায় বিশেষ নিয়মও জারি হতে পারে বলে জল্পনা তুঙ্গে।

কেন এই সতর্কতা?

জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র দিঘায় অসাবধানতার জেরে সামুদ্রিক দুর্ঘটনার খবর নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে নারী পর্যটকদের ক্ষেত্রে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ বা অনেক সময় নাইটি পরে জলে নামার প্রবণতা দেখা যায়। জলের তোড়ে এই ধরনের পোশাক পায়ে জড়িয়ে গেলে ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। সমুদ্রের বড় ঢেউ আছড়ে পড়লে দ্রুত হাঁটা, সাঁতার কাটা বা নিজেকে সামলে তীরে উঠে আসা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এই ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা এড়াতেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপদ পোশাকের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

কী বলছেন রাজনৈতিক মহল ও বিশিষ্টরা?

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। অনেকেই বিষয়টিকে নারী-স্বাধীনতার গণ্ডির সঙ্গে জুড়ে দেখার চেষ্টা করলেও, এই যুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেছেন বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ।

এই প্রসঙ্গে কেয়া ঘোষ বলেন, “অনেকেই বিষয়টি নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে নারী-বিরোধী ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করছেন। কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী মূলত মহিলাদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই এই মন্তব্য করেছেন। শাড়ি বা সালোয়ার জলে ভিজে ভারী হয়ে যায় এবং পায়ে জড়িয়ে যায়। এমন পোশাক পরে ঢেউয়ের মধ্যে দ্রুত নড়াচড়া করা যায় না, ফলে ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। আমি এই চিন্তাভাবনাকে পুরোপুরি সমর্থন করি।”

‘ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ’ পোশাক আসলে কী?

এই প্রশ্নের জবাবে কেয়া ঘোষ জানান, শর্ট কুর্তি কিংবা এমন কোনো আরামদায়ক পোশাক পরা যেতে পারে যা জলের তোড়ে পায়ে পেঁচিয়ে যাবে না। চলাফেরায় যাতে কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়, সেটাই প্রধান বিবেচ্য হওয়া উচিত।

পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, কেউ যদি সুইমস্যুট বা সাঁতারের পোশাক পরতে চান, তাতেও কোনো বাধা থাকা উচিত নয়। তাঁর কথায়, “সাঁতারের পোশাক পরতেই পারেন, তাতে কোনো সমস্যা নেই। যদিও আমাদের সমাজ এখনও সম্পূর্ণভাবে সেই অর্থে প্রগতিশীল হয়ে ওঠেনি, তবুও কেউ যদি সেই পোশাকে স্বচ্ছন্দ হন, তবে তাঁর স্বাধীনতা থাকা উচিত।” তবে পোশাকের থেকেও বড় বিষয় হলো পর্যটকদের নিজস্ব সুরক্ষা।

আন্তর্জাতিক মান ও লাইফগার্ডদের পরামর্শ

বিশ্বের বহু দেশেই সমুদ্র সৈকতে নির্দিষ্ট সাঁতারের পোশাক ছাড়া জলে নামার অনুমতি দেওয়া হয় না। লাইফগার্ডদের মতে, সমুদ্রে নামার সময় এমন পোশাক পরা উচিত যা শরীরে আঁটসাঁট থাকে, জল টেনে অতিরিক্ত ভারী হয়ে যায় না এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাঁতার কাটতে বা নড়াচড়া করতে সাহায্য করে। পর্যটকদের জীবন রক্ষা করতে এবার দিঘা প্রশাসনও পোশাক নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারের রূপরেখা তৈরি করছে।

Editor001
  • Editor001

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *