মঞ্চে উঠতেই জয় গোস্বামীকে ঘিরে তুলকালাম! ১৯ বছর পর তসলিমার অনুষ্ঠানে কোন পুরনো ক্ষোভের বিস্ফোরণ?

দীর্ঘ ১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরে তসলিমা নাসরীনের নাগরিক সংবর্ধনা ও সাহিত্যিক অনুষ্ঠান ঘিরে রাজনৈতিক ও সাহিত্য মহলে উত্তাপ তুঙ্গে। এর মধ্যেই শনিবার কলকাতার একটি অনুষ্ঠানে এক অনভিপ্রেত ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আমন্ত্রিত বিশিষ্ট বাঙালি কবি জয় গোস্বামীকে মঞ্চে ডাকায় দর্শকদের একাংশের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়তে হয়, যার জেরে কিছুক্ষণের জন্য থমকে যায় অনুষ্ঠান।

ঠিক কী ঘটেছিল অনুষ্ঠানে?

রাজ্য সচিবালয়ের একটি হলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত থেকে নাগরিক সংবর্ধনা পাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। ১৯ বছর পর তাঁর এই প্রত্যাবর্তন উদযাপন করার জন্য আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তসলিমা দর্শকাসনে বসে থাকা সাহিত্য আকাদেমি জয়ী প্রখ্যাত কবি জয় গোস্বামীকে মঞ্চে আসার অনুরোধ জানান।

কিন্তু জয় গোস্বামী আসন ছেড়ে মঞ্চের দিকে এগোতেই দর্শকাসনের একটি অংশ থেকে তীব্র প্রতিবাদ, হইচই এবং দুয়ো ধ্বনি দেওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে জয় গোস্বামী বাধ্য হয়ে নিজের আসনে ফিরে যান। হঠাৎ এই হট্টগোলে প্রেক্ষাগৃহে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তসলিমা নাসরিনকে কিছুক্ষণের জন্য মাইক্রোফোনের সামনে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

প্রতিবাদের নেপথ্য কারণ কী?

রাজনৈতিক ও সাহিত্য মহলের একাংশের মতে, ২০০৭ সালে তসলিমা নাসরীন যখন প্রবল বিরোধিতার মুখে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন, সেই সময় তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের আমল এবং পরবর্তীতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা কবি জয় গোস্বামীর কথিত ‘নীরবতা’ নিয়ে অনেকর মনেই ক্ষোভ জমে ছিল। যদিও পরবর্তী সময়ে জয় গোস্বামী প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন যে, তসলিমার সেই কঠিন সময়ে তাঁকে পর্যাপ্ত সমর্থন দিতে না পারার জন্য তাঁর মনে গভীর অপরাধবোধ কাজ করে। তবে পুরনো সেই ক্ষোভ এবং রাজনৈতিক সমীকরণের রেশ ধরেই দর্শকদের একাংশ এদিন কবিকে তসলিমার সঙ্গে একই মঞ্চে দেখতে নারাজ ছিলেন।

পরিস্থিতি সামাল দেন তসলিমা

বিক্ষোভ ও স্লোগানের জেরে অনুষ্ঠান যখন প্রায় পণ্ড হওয়ার উপক্রম, তখন আয়োজকরা বারবার শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু কাজ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত নিজেই মাইক্রোফোন হাতে নেন তসলিমা নাসরিন। তিনি সরাসরি দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, “আমি কি কিছু বলতে পারি? দয়া করে শান্ত হোন এবং নিজ নিজ আসনে বসুন।” লেখিকার এই শান্ত করার আবেদনে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে এবং হট্টগোল থেমে যাওয়ার পর তিনি তাঁর বাকি বক্তব্য পেশ করেন। নিজের বক্তব্যে তিনি এই প্রত্যাবর্তনকে নিজের ফেলে আসা শেকড়ে ফেরা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, অবিচার দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, কিন্তু তা চিরকালের জন্য স্থায়ী হয় না। একদিন সব লেখকই স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *