এশিয়ার বৃহত্তম মল্লিকঘাট ফুলবাজারকে নিয়ে বিরাট মাস্টারপ্ল্যান! বিশ্বমানের ট্রেড হাব গড়তে কী উদ্যোগ নিল রাজ্য?

এশিয়ার বৃহত্তম ফুলবাজার হিসেবে পরিচিত কলকাতার ঐতিহাসিক মল্লিকঘাট ফুলবাজারকে (Mallick Ghat Flower Market) সম্পূর্ণ নতুন পরিচয়ে তুলে ধরতে এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। হাওড়ার ব্রিজের পাদদেশে অবস্থিত এই ঐতিহ্যবাহী বাজারকে আধুনিক পরিকাঠামো, উন্নত সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানের বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধায় সজ্জিত করে একটি বিশ্বমানের ফুল ট্রেড হাবে রূপান্তর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি রাজ্যের ফুলচাষ শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে প্রশাসন।

আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা:
দীর্ঘদিন ধরে পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ফুল নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে মল্লিকঘাট বাজারে অত্যাধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোল্ড স্টোরেজ (Cold Storage) নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা চালু হলে ফুল দীর্ঘ সময় সতেজ থাকবে, অপচয় কমবে এবং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ বজায় রাখা সহজ হবে। এর ফলে ব্যবসায়ী ও ফুলচাষি—উভয়েই দারুণভাবে লাভবান হবেন।

উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও মন্ত্রীর উদ্যোগ:
এই উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে সম্প্রতি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানপালনমন্ত্রী ডা. কল্যাণ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে প্রকল্পের প্রতিটি দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুধু বাজার সংস্কার নয়, বরং ফুলচাষ থেকে শুরু করে বিপণন পর্যন্ত গোটা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানো হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে যেসব ফুলের চাহিদা বেশি, সেগুলির উৎপাদন বাড়াতে চাষিদের উৎসাহিত করা হবে। রপ্তানিযোগ্য মানের ফুলের চাষ বাড়লে বিদেশের বাজারে পশ্চিমবঙ্গের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে, যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি চাষিদের আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে।

পরিকাঠামোর সার্বিক উন্নয়ন:
সংরক্ষণ ব্যবস্থা ছাড়াও বাজারের পরিচ্ছন্নতা, লোডিং-আনলোডিংয়ের সুবিধা, পরিবহন ব্যবস্থা, রপ্তানির লজিস্টিকস এবং আধুনিক বিপণন পরিকাঠামোও উন্নত করা হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য, মল্লিকঘাটকে এমন একটি ফুলবাজারে পরিণত করা যেখানে দেশ-বিদেশের ক্রেতারা সহজে ব্যবসা করতে পারবেন এবং সমস্ত আধুনিক পরিষেবা এক ছাদের নিচে মিলবে। এর ফলে রাজ্যের কৃষি অর্থনীতিতেও দারুণ ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *