তারাপীঠে কৌশিকী অমাবস্যা কবে? রইল ২০২৬ সালের সঠিক তিথি, সময় ও ভুক্তভোগীদের ভক্তিভরা অজানা তথ্য!

‘কৌশিকী অমাবস্যা’ বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বীরভূমের তারাপীঠের ছবি। ভাদ্র মাসের এই বিশেষ অমাবস্যার তিথির জন্য সারা বছর মুখিয়ে থাকেন ভক্তকুল। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পবিত্র দিনে মা তারার চরণে মন থেকে কিছু প্রার্থনা করলে তা খালি হাতে ফেরাতে হয় না। ২০২৬ সালে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অমাবস্যা ঠিক কবে পড়েছে এবং পুজো দেওয়ার সঠিক সময়টাই বা কখন, তা নিয়ে ভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই।

কবে ও কখন শুরু হচ্ছে অমাবস্যা তিথি?
পঞ্জিকা অনুসারে, এ বছর কৌশিকী অমাবস্যা পড়েছে ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার। এই অমাবস্যার প্রভাব থাকবে পরের দিন অর্থাৎ ১১ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত।

ঘড়ির কাঁটা ধরে সঠিক সময় দেখে নিন:

তিথি শুরু: ১০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০:১১ মিনিটে অমাবস্যা তিথি শুরু হচ্ছে।

তিথি শেষ: ১১ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) সকাল ৮:৫০ মিনিটে অমাবস্যা তিথি সমাপ্ত হবে।

ফলস্বরূপ, মা তারার পুজো, আরাধনা ও সাধনা করার জন্য ভক্তরা এই নির্দিষ্ট সময়টুকুই নিখুঁতভাবে কাজে লাগাতে পারবেন।

দেবীর নাম কেন ‘কৌশিকী’ হলো?
এই নামকরণের নেপথ্যে রয়েছে এক চমৎকার পৌরাণিক ও মনস্তাত্ত্বিক গল্প। প্রাচীনকালে শুম্ভ ও নিশুম্ভ নামের দুই অত্যাচারী অসুর ব্রহ্মার কাছ থেকে বর পেয়েছিল যে, কোনও মাতৃগর্ভ থেকে জন্ম নেওয়া নারী তাদের বধ করতে পারবে না। অর্থাৎ, কোনও ‘অযোনিসম্ভূতা’ নারীর হাতেই কেবল তাদের মৃত্যু লেখা ছিল।

একদা দেবী পার্বতীর গায়ের রঙ সামান্য শ্যামলা বা কালো ছিল, যার জন্য মহাদেব তাঁকে ভালোবেসে ‘কালিকা’ বলে ডাকতেন। এক দিন সবার সামনে মহাদেবের মুখে এই নাম শুনে দেবীর মনে তীব্র অভিমান হয়। অভিমানভরে তিনি মানস সরোবরের তীরে কঠোর তপস্যায় ব্রতী হন।

তপস্যা সম্পন্ন করে তিনি যখন সরোবরের জলে স্নান করেন, তখন তাঁর শরীর থেকে সমস্ত কালো কোশ (cell) ঝরে পড়ে। এর ফলে দেবী পার্বতী হয়ে ওঠেন পূর্ণিমার চাঁদের মতো ফর্সা ও অপরূপ সুন্দরী। দেবীর শরীর থেকে ঝরে পড়া সেই কালো কোশ থেকেই জন্ম নেন এক নতুন শক্তি। কোশ থেকে অবতীর্ণ হয়েছেন বলেই তাঁর নাম হয় ‘কৌশিকী’। পরবর্তীতে ভাদ্র মাসের এই পবিত্র তিথিতেই তিনি দুই অসুরকে সংহার করে স্বর্গ ও মর্ত্যকে রক্ষা করেছিলেন।

তারাপীঠ ও সাধক বামাক্ষ্যাপার আধ্যাত্মিক যোগ
তন্ত্র সাধনায় এই বিশেষ রাতকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে ‘তারা রাত্রি’ বলা হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই অমাবস্যার রাতে ভালো ও মন্দ—উভয় শক্তির পথই অবারিত থাকে।

আমাদের বাংলার মহান তান্ত্রিক সাধক বামাক্ষ্যাপা এই কৌশিকী অমাবস্যার রাতেই তারাপীঠের মহাশ্মশানে কঠোর সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন এবং মা তারার দিব্য দর্শন পেয়েছিলেন। সেই ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য মেনেই প্রতি বছর এই দিনে তারাপীঠে মা তারাকে বিশেষ রাজবেশে সাজানো হয় এবং অত্যন্ত আড়ম্বর ও ভক্তির সঙ্গে পুজো সম্পন্ন করা হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *