প্রশান্ত কিশোরের রূপেই আসল ধাক্কা! বিজেপির অহংকার ভেঙে বিহার ও মধ্যপ্রদেশে ঘুরল রাজনৈতিক সমীকরণ

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দেশের তিনটি বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়েছে। এই তিনটি আসনের মধ্যে বিজেপি কেবল গুজরাটের মঞ্জলপুর আসনটি নিজেদের দখলে রাখতে পেরেছে। অন্যদিকে, বিহারের ঐতিহ্যবাহী বাঁকিপুর আসনে ভোটকুশলী থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা প্রশান্ত কিশোরের দল এবং মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া আসনে কংগ্রেস জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। এই ফলাফল সরাসরি সরকারের স্থিতিশীলতায় প্রভাব না ফেললেও, জাতীয় রাজনীতি এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির ভবিষ্যতের জন্য এক সুদূরপ্রসারী বার্তা দিয়ে গেল।
১. বাঁকিপুরে বিজেপির ৩০ বছরের দুর্গে ধস ও পিকের ঐতিহাসিক জয়
বিহারের বাঁকিপুর আসনটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে, কারণ ১৯৯৫ সাল থেকে এই আসনটি বিজেপির নিরঙ্কুশ দখলে ছিল। সম্প্রতি এখান থেকে জয়ী হওয়া নিতিন নবীন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি হওয়ার পর আসনটি খালি হয়। সম্পূর্ণ শহুরে এবং বিজেপির অত্যন্ত শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার রেকর্ড গড়েছেন ‘জন সুরাজ পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর (পিকে)।
-
ভোটের ব্যবধান: প্রশান্ত কিশোর পেয়েছেন ৬৩,৯৪৬ ভোট এবং তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহা পেয়েছেন ৪৪,৭০০ ভোট। অর্থাৎ ১৯ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজেপিকে হারিয়ে দিয়েছেন পিকে।
-
মাত্র কয়েক মাস আগে যে আসনে বিজেপি ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতেছিল, সেখানে এমন পরাজয় গেরুয়া শিবিরের অন্দরে বড়সড় আত্মমন্থন শুরু করে দিয়েছে। জয়ের পরেই পিকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর বিরুদ্ধে তোপ দেগে জানান যে, বাঁকিপুরের মানুষ বিজেপি নেতৃত্বকে একজন যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিকে মুখ্যমন্ত্রী করার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
২. দাতিয়ায় কংগ্রেসের কাছে পরাস্ত বিজেপি
মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া আসনেও বড় ধাক্কা খেয়েছে বিজেপি। এখানে কংগ্রেস প্রার্থী ঘনশ্যাম সিং বিজেপির আশুতোষ তিওয়ারিকে পরাজিত করেছেন। বিজেপির পুরনো ও শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনে কংগ্রেসের এই জয় মধ্যপ্রদেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।
৩. উপনির্বাচনে বিজেপির হারের সম্ভাব্য কারণগুলি এক নজরে
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উপনির্বাচনগুলিতে বিজেপির হারের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে:
-
দলের ভেতর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং দুর্বল প্রার্থী নির্বাচন।
-
নিট (NEET) ছাত্র আন্দোলন এবং ইউজিসি (UGC) ইস্যু নিয়ে উচ্চবর্ণের একাংশের ক্ষোভ।
-
ভারত তিওয়ারি সংক্রান্ত ঘটনা এবং স্থানীয় স্তরে ভোটারদের অসন্তোষ।
-
মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া নেতিবাচক পরিবেশ।
-
প্রশান্ত কিশোরের ভাবমূর্তি ও তাঁর উত্থাপিত জনমুখী ইস্যুগুলির প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন, যা বিরোধী ভোটকে এক জায়গায় নিয়ে আসতে সাহায্য করেছে।
যদিও গুজরাটের মঞ্জলপুর আসনে বিজেপির সতেন্দ্রভাই প্যাটেল কংগ্রেস প্রার্থীকে বিপুল ব্যবধানে হারিয়ে দলের সম্মান রক্ষা করেছেন, তবুও বাঁকিপুর ও দাতিয়ার মতো সুরক্ষিত আসন হাতছাড়া হওয়া যে বিজেপির রাজ্য ও জাতীয় নেতৃত্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে, তা বলাই বাহুল্য।