প্রধানমন্ত্রীর কন্টেন্টই যদি নিরাপদ না হয়, সাধারণ মানুষের গ্যারান্টি কোথায়? টেক জায়ান্টদের কড়া ভাষায় তলব

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ড এবং ডেটা সুরক্ষার বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা (Meta) কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ফেসবুক ভিডিও ভুলবশত সরিয়ে ফেলার ঘটনায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছে কমিটি। মেটার তরফে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা করা হলেও তা সরাসরি নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। কমিটির সাফ কথা—শুধু ‘দুঃখিত’ বা ক্ষমা চাইলেই এই সংবেদনশীল ভুলের সমাধান হবে না, এর পেছনে যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

সংসদীয় কমিটির বৈঠকে কী আলোচনা হলো?

বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের সভাপতিত্বে যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (MeitY) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি গুগল, ইউটিউব, এক্স (টুইটার), স্ন্যাপচ্যাট এবং মেটার মতো বিশ্বের বৃহত্তম প্রযুক্তি সংস্থাগুলির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল মেটা প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভিডিও সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি। সাংসদরা একযোগে প্রশ্ন তোলেন, “যখন দেশের প্রধানমন্ত্রীর কন্টেন্টই সুরক্ষিত নয় এবং তা প্ল্যাটফর্ম থেকে উধাও হয়ে যেতে পারে, তখন সাধারণ সাধারণ ব্যবহারকারীর তথ্যের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা কে নিশ্চিত করবে?”

মেটার সাফাই ও কমিটির ক্ষোভ

মেটার প্রতিনিধিরা কমিটির সামনে হাজির হয়ে জানান যে, প্রযুক্তিগত বা অন্য কোনো ভুলের কারণে ওই ভিডিওটি দুর্ঘটনাবশত সরিয়ে ফেলা হয়েছিল এবং এই ভুলের জন্য তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমাও চেয়েছেন। তবে কমিটির সদস্যরা একবাক্যে জানিয়ে দেন যে, এটি কোনো সাধারণ প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিকে সম্পূর্ণ জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

কমিটি স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছে যে, মেটাকে অবিলম্বে এই ঘটনার পেছনে থাকা দায়ীদের শনাক্ত করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করতে হবে। ডিজিটাল দুনিয়ায় বড় বড় টেক কোম্পানির এই ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা আর সহজে সহ্য করা হবে না বলেই সংসদীয় কমিটির এই বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *