IRCTC-র নিয়মে বড় বদল! ১৫ জুলাই থেকে চালু হওয়া নতুন বেটা ওয়েবসাইটের ম্যাজিকে হু হু করে কাটছে টিকিট

ভারতীয় রেলের অনলাইন টিকিট বুকিং ব্যবস্থায় এক বিরাট পরিবর্তন নিয়ে এল ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন (IRCTC)। ১৫ জুলাই ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে নতুন IRCTC Beta Website। রেলযাত্রীদের আরও দ্রুত, সহজ এবং সম্পূর্ণ ঝামেলাহীন টিকিট বুকিংয়ের অভিজ্ঞতা দিতেই এই আধুনিক পদক্ষেপ করা হয়েছে।
রেল মন্ত্রকের অধীনস্থ নবরত্ন এই সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, নতুন এই ওয়েবসাইটে যুক্ত করা হয়েছে অত্যাধুনিক ডিজাইন, উন্নত প্রযুক্তি এবং ইউজার-ফ্রেন্ডলি ইন্টারফেস। আন্তর্জাতিক মানের ‘গ্লাসমরফিজম’ (Glassmorphism) ডিজাইনের অনুপ্রেরণায় তৈরি এই প্ল্যাটফর্মের ফলে লগইন থেকে শুরু করে টিকিট বুকিংয়ের গোটা প্রক্রিয়াটি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও আকর্ষণীয় হয়েছে।
বুকিংয়ের গতি ও সাফল্যের হার বৃদ্ধি
নতুন এই ওয়েবসাইট চালুর পর থেকেই টিকিট বুকিংয়ের গতিতে অভাবনীয় উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। আইআরসিটিসি-র দাবি অনুযায়ী:
তৎকাল বুকিংয়ের প্রথম ৩ মিনিটের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া টিকিটের সংখ্যা ৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
৫ মিনিটের উইন্ডোতে বুকিং বেড়েছে প্রায় ৩ শতাংশ।
৩০ মিনিটের মধ্যে বুকিং ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়া ২০২৬ সালের জুলাই মাসে অনলাইনে রেল টিকিট বুকিংয়ের অংশীদারিত্ব একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯.৮৪ শতাংশে।
নতুন ওয়েবসাইটের বিশেষ কিছু আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য:
ঝামেলামুক্ত প্রক্রিয়া: যাত্রীদের মূল্যবান মতামতের ভিত্তিতে বারবার বিরক্তিকর CAPTCHA কোড টাইপ করা বা অপ্রয়োজনীয় পপ-আপ আসার মতো বাধাগুলো অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এক স্ক্রিনে সমস্ত ক্লাসের সিট দেখার সুবিধা: নতুন সাইটের অন্যতম সেরা বৈশিষ্ট্য হলো, এখন একই স্ক্রিনে স্লিপার (Sleeper), এসি থ্রি টিয়ার (AC 3 Tier), এসি টু টিয়ার (AC 2 Tier)-সহ বিভিন্ন শ্রেণির আসনের প্রাপ্যতা বা সিট অ্যাভেইলাবিলিটি একনজরে দেখা যাবে। এর ফলে যাত্রীরা সহজেই বিভিন্ন ক্লাসের ভাড় ও সুযোগ সুবিধা তুলনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
আইআরসিটিসি জানিয়েছে, এটি শুধু একটি ওয়েবসাইটের বাহ্যিক রূপ বদল নয়, বরং অনলাইন রেল সংরক্ষণ ব্যবস্থার একটি সুদূরপ্রসারী ডিজিটাল রূপান্তর। আগামী দিনেও যাত্রীদের ফিডব্যাক বা মতামতের ওপর ভিত্তি করে এই ওয়েবসাইটে আরও নতুন ও আধুনিক ফিচার যুক্ত করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ আরও উন্নত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিষেবা পেতে পারেন।