নতুন অবতারে টলিউড সুপারস্টার জিৎ! ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’-এর ট্রেলার লঞ্চে ফাঁস হলো বড় তথ্য

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রকাশ্যে এল টলিউড সুপারস্টার জিৎ (Jeet) অভিনীত অত্যন্ত প্রতীক্ষিত ছবি ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’ (Keu Bole Biplobi Keu Bole Dakat)-এর ট্রেলার। এই সিনেমায় বাংলার এই জনপ্রিয় তারকাকে সম্পূর্ণ এক নতুন এবং অচেনা অবতারে খুঁজে পাবেন দর্শকরা। ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে খোদ অভিনেতা নিজেই জানিয়েছেন যে, শারীরিক ও মানসিক—উভয় দিক থেকেই এই ছবি তাঁর দীর্ঘ অভিনয় কেরিয়ারের অন্যতম সবচেয়ে বড় এবং কঠিন চ্যালেঞ্জিং চরিত্র।
ট্রেলার ও ছবির পটভূমি
ছবিটির ট্রেলার লঞ্চের মঞ্চে জিৎ বলেন, “ট্রেলারটির প্রতি মানুষের সাড়া সত্যিই অভাবনীয়। এটা যে ভালোবাসা ও প্রশংসা পেয়েছে, তার জন্য আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। পরিচালক পথিকৃৎ বসুর দৃষ্টিভঙ্গি ও দৃঢ় প্রত্যয় আমাকে প্রতিটি পদক্ষেপে নিজের সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি আশা করছি, আগামী ১৪ অগস্ট যখন ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে, তখন দর্শকরাও একে একইভাবে ভালোবাসায় গ্রহণ করবেন।”
‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’ ছবিতে কিংবদন্তি বিপ্লবী অনন্ত সিং-এর জীবনযাত্রাকে সেলুলয়েডের পর্দায় জীবন্ত করে তোলা হয়েছে। এটি কেবল কোনো একক ব্যক্তির জীবনী নয়, বরং একটি আদর্শ, একটি দর্শন, এক নিরলস সংগ্রাম এবং ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে আসা কিছু অমীমাংসিত ও কঠিন প্রশ্নের দলিল।
বিশেষ করে এই ট্রেলার লঞ্চের জন্য আলিপুর জেল মিউজিয়াম-কে বেছে নেওয়া হয়েছিল, যা বাংলার অসংখ্য বিপ্লবীর জীবন, রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ইতিহাস বুকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। পরিচালক পথিকৃৎ বসুর পরিচালনায় এই ছবি অনন্ত সিংয়ের বর্ণময় অথচ বহুলাংশে স্বল্প-আলোচিত কাহিনীকে দর্শকের সামনে নিয়ে আসছে।
দুই দশকের রূপালী পর্দার সফর
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য কেরিয়ারে ইতিমধ্যে ৫৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ফেলেছেন জিৎ। ২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মেগাহিট ‘সাথী’ সিনেমাটি তাঁর কেরিয়ারে রাতারাতি বিরাট সাফল্যের জোয়ার এনে দিয়েছিল এবং বাংলা বাণিজ্যিক সিনেমার ধারাকে বদলে দিয়েছিল।
তবে অনেকেরই হয়তো অজানা, বড়পর্দায় পা রাখার আগে ১৯৯৪ সালে বিষ্ণু পালচৌধুরীর হিন্দি টিভি সিরিজ ‘বিষবৃক্ষ’-এ সুদীপ্তা চক্রবর্তীর বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন জিৎ। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত বাংলা উপন্যাস ‘বিষবৃক্ষ’ অবলম্বনে তৈরি ওই ধারাবাহিকে ‘তারাচরণ’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল। এরপর দূরদর্শনের ‘জননী’ (১৯৯৫) এবং ‘ভাবনা’ (১৯৯৫)-এর মতো ধারাবাহিকেও তিনি ছোটখাটো চরিত্রে কাজ করেন। এমনকি ১৯৯৫ সালে প্রবীণ পরিচালক তপন সিনহার হিন্দি অ্যান্থোলজি সিনেমা ‘ডটার্স অফ দিস সেঞ্চুরি’ (Daughters of This Century)-তে সহকারী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি শাবানা আজমি ও দীপা সাহি অভিনীত দুটি অংশে অভিনয়ও করেছিলেন তিনি।
পরবর্তীতে ২০০০ সালের ডিসেম্বরে তেলুগু ও হিন্দি দ্বিভাষিক ছবি ‘চান্দু’-র মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক ঘটলেও বক্সঅফিসে তা সফল হয়নি। তবে ঠিক তার পরের বছর ২০০১ সালে প্রিয়াঙ্কা উপেন্দ্রর বিপরীতে রোমান্টিক-মিউজিক্যাল ছবি ‘সাথী’ দিয়ে টলিউডে এন্ট্রি নেন জিৎ, আর তারপর তাঁকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন দেখার, ১৪ আগস্ট মুক্তি পেতে চলা নতুন এই ঐতিহাসিক ঘরানার ছবিতে জিৎ বক্সঅফিসে কতটা ঝড় তুলতে পারেন!