“বাংলাদেশের হিন্দু মেয়েরা আজও নির্যাতনের শিকার, UCC দরকার”-বললেন তসলিমা

প্রায় দুই দীর্ঘ দশক পর কলকাতায় পা রাখলেন প্রখ্যাত তথা বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। শনিবার রাজ্য সরকারের তরফ থেকে তাঁকে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। রবিবারেও তিলোত্তমা শহরেই রয়েছেন তিনি এবং এদিন একটি সাংবাদিক সম্মেলনেও যোগ দেন লেখিকা। সেখানে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, এদেশের ছাত্র আন্দোলন, বিশিষ্ট কবি জয় গোস্বামী থেকে শুরু করে বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয়ে খোলামেলা মতামত ব্যক্ত করেন তিনি। তবে সব ছাপিয়ে তাঁর মুখে উঠে আসে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সেখানকার সংখ্যালঘু হিন্দুদের দুর্বিষহ অবস্থার কথা।

বাংলাদেশে হিন্দু ও মুসলিম নারীদের অধিকার নিয়ে বড় মন্তব্য

বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তসলিমা নাসরিন বলেন, “সভ্যতার প্রথম শব্দই হলো সমানাধিকার। কিন্তু সেখানে মুসলিম মেয়েরা যেমন বৈষম্যের শিকার হচ্ছে, তেমনই বাংলাদেশে হিন্দু মেয়েদেরও কোনো মৌলিক অধিকার নেই। ওখানে হিন্দু মেয়েরা আজও পৈতৃক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারে না। হিন্দু নারীরা যাতে পূর্ণ স্বাধীনতা ও সমান অধিকার পেতে পারে, তার জন্য সেখানে অবিলম্বে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) চালু করা দরকার।”

হাসিনা থেকে ইউনূস আমল: একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ

বাংলাদেশের বর্তমান সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তসলিমা জানান, বাংলাদেশে মুসলিম নারীরা যেমন গৃহবধূ ও সমাজের নানা স্তরে নির্যাতনের শিকার, তেমনই হিন্দুরা চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য, “বর্তমান সময়ে পরিস্থিতির খুব একটা তফাত হয়নি। হিন্দুরা আগেও অত্যাচারিত হয়েছে, এখনও হচ্ছে। শেখ হাসিনার আমল থেকে শুরু করে বর্তমান ইউনূসের আমল—সবক্ষেত্রেই হিন্দুরা বেশি করে অত্যাচারের মুখোমুখি হয়েছে। আসলে সমাজের গভীরে হিন্দু-বিদ্বেষী মানসিকতা তৈরি করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে একমাত্র হাতিয়ার হলো সঠিক শিক্ষা এবং সবার জন্য সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা। সরকার যদি সঠিক শিক্ষার প্রসার ঘটাত, তবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না।”

মাদ্রাসা শিক্ষা ও মসজিদ নিয়ে তীব্র আক্রমণ

এদিনের প্রেস কনফারেন্সে বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েও চরম আক্রমণ শানান তসলিমা। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলিতে পরোক্ষভাবে অমুসলিমদের প্রতি ঘৃণা ছড়ানো এবং তা শেখানো হচ্ছে। তসলিমার স্পষ্ট বক্তব্য, সরকার যদি এই সমস্ত মাদ্রাসা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ না করে, তবে এই ধর্মীয় বিদ্বেষ কোনোভাবেই রোধ করা যাবে না।

তিনি আরও যোগ করেন, “বাংলাদেশে মাদ্রাসা থাকার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। মাদ্রাসার নামে সেখানে জেহাদি তৈরি হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে শিশু নির্যাতনের ঘটনাও ঘটছে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত মসজিদ তৈরি হচ্ছে, যা প্রকারান্তরে জেহাদি তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে।” প্রায় কুড়ি বছর পর কলকাতার মাটিতে দাঁড়িয়ে তাঁর এই মন্তব্য যে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *