ভারতের খণ্ডিত মানচিত্র দেখে ফুঁসে উঠলেন লভলিনা বরগোঁহাই! গ্লাসগোতে রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে সোচ্চার অলিম্পিক পদকজয়ী

গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের বক্সিং রিংয়ে রেকর্ড ১০টি পদক জিতে ইতিহাস গড়েছে ভারত। দেশের এই ঐতিহাসিক সাফল্য উদ্‌যাপন করতে গিয়ে চরম বিপত্তি ও অপমানের মুখে পড়তে হলো ভারতীয় দলকে। শহরের এক বিখ্যাত ভারতীয় রেস্তোরাঁয় ন্যাপকিন ও ডিসপ্লেতে ভারতের যে মানচিত্র ছাপা হয়েছিল, সেখানে উধাও ছিল গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চল! আর দেশের এই খণ্ডিত রূপ দেখেই কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে নজির গড়লেন অলিম্পিক পদকজয়ী তারকা বক্সার লভলিনা বরগোঁহাই।

গ্লাসগোয় দারুণ সাফল্যের পর শনিবার রাতে ভারতীয় বক্সিং দলের সকলে মিলে হাজির হন ‘মিস্টার সিংজ ইন্ডিয়া’ (Mr Singh’s India) নামক এক বিখ্যাত রেস্তোরাঁয়। কিন্তু খাবার টেবিলে বসার পরেই অসমের মেয়ে লভলিনার নজর কাড়ে সেই মারাত্মক ভুল। তিনি দেখতে পান, রেস্তোরাঁর ন্যাপকিন এবং লোগোতে থাকা ভারতের মানচিত্রে উত্তর-পূর্ব ভারতের কোনো অস্তিত্বই নেই, এমনকি কাশ্মীরের অংশ নিয়েও গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে। দেশের এমন বিকৃত রূপ দেখে এক মুহূর্তও চুপ থাকেননি লভলিনা।

লভলিনার জোরালো প্রতিবাদ

সোজা রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি। পরে সংবাদমাধ্যম ও নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ভিডিও বার্তা দিয়ে লভলিনা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ওখানকার ন্যাপকিন আর লোগোতে ভারতের যে ম্যাপ ছাপা হয়েছে, তাতে উত্তর-পূর্ব অংশটাই নেই। ওই অঞ্চলের একজন বাসিন্দা হিসেবে এটা আমাদের খুব আঘাত করে। দয়া করে পরের বার বিষয়টা মাথায় রাখবেন।”

কর্তৃপক্ষের ভুল স্বীকার ও ক্ষমা প্রার্থনা

এই নৈশভোজের আসরে উপস্থিত থাকা বক্সিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার (BFI) সভাপতি অজয় সিং-ও এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করেন। শেষ পর্যন্ত লভলিনা ও অজয় সিংয়ের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে নিজেদের ভুল স্বীকার করতে বাধ্য হয় রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ। তারা সাফাই দেয় যে এটি একটি পুরোনো বা ব্রিটিশ ম্যাপ ছিল, যার জন্যই এই অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে। তবে তারা অবিলম্বে ক্ষমা চেয়ে ন্যাপকিন ও ডিসপ্লেতে ভারতের সঠিক ও সম্পূর্ণ মানচিত্র বদলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের রিংয়ে পদক জয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের এই সাহসিকতাপূর্ণ প্রতিবাদের জন্য এখন আপামর ভারতবাসীর চোখে আসল ‘চ্যাম্পিয়ন’ হয়ে উঠেছেন লভলিনা বরগোঁহাই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *