জাকার্তা এশিয়াডের সোনাজয়ী বঙ্গকন্যার চোখের জলে ট্র্যাক ছাড়ার ঘোষণা! রাজনীতিতে নেমে কোন মর্মান্তিক পরিণতি স্বপ্নার?

অ্যাথলেটিক্সকে বিদায় জানালেন এশিয়াড সোনাজয়ী স্বপ্না বর্মন। শুক্রবার একটি আবেগঘন সোশাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে ট্র্যাক ও ফিল্ডকে চিরতরে আলবিদা জানান জলপাইগুড়ির এই বঙ্গকন্যা। ২০১৮ সালের জাকার্তা এশিয়ান গেমসের হেপ্টাথলনে সোনা জিতে দেশের পাশাপাশি বাংলার ক্রীড়ামহলে ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি। তাঁর এই প্রস্থান রাজ্যের ক্রীড়া জগতে এক যুগের অবসান ঘটাচ্ছে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

রেলের চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে পা ও ছন্দপতন

জাকার্তা এশিয়াডে ঐতিহাসিক সাফল্যের পর আলিপুরদুয়ার রেলওয়ে ডিভিশনের ওয়েলফেয়ার ইন্সপেক্টর হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন স্বপ্না। তবে তাঁর জীবনপথে বড় মোড় আসে চলতি বছর বিধানসভা নির্বাচনের সময়। রেলের চাকরি ছেড়ে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন।

তৃণমূলের টিকিটে রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও রাজনৈতিক ময়দানে সাফল্য পাননি বছর উনত্রিশের এই অ্যাথলিট। বিজেপির প্রার্থী দীনেশ সরকারের কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। একদিকে নিশ্চিত সরকারি চাকরি ছাড়া, অন্যদিকে রাজনীতিতে নেমে ভরাডুবি—এই দুইয়ের জেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন স্বপ্না। রাজনীতি থেকে আগেই দূরত্ব তৈরি করলেও এবার খেলাধুলাকেও বিদায় জানালেন তিনি।

কী লিখেছেন স্বপ্না বর্মন?

শুক্রবার নিজের সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে অবসরের ঘোষণা করে স্বপ্না লেখেন, “এটা আমার জীবনের অন্যতম কঠিন সিদ্ধান্তের একটি। অ্যাথলেটিক্স আমার কাছে শুধু খেলাধুলোর চেয়েও অনেক বেশি কিছু; এটি আমার পরিচয়, আমার আকাঙ্ক্ষা, আমার স্বপ্ন।” তিনি আরও লেখেন, “আমি সবটুকু এই খেলায় এবং দেশের জন্য উজাড় করে দিয়েছি। আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম আরও বড় কিছু অর্জনের, কিন্তু সেগুলো ছুঁতে পারিনি। তবে তাতে আমার কোনও আক্ষেপ নেই, কারণ আমি জানি এই যাত্রাপথে আমি সর্বস্ব দিয়েছি।” শেষে অর্জুন পুরস্কার প্রাপক এই অ্যাথলিট যোগ করেন, “আমি আজ কৃতজ্ঞতায় পরিপূর্ণ হৃদয় এবং প্রচুর স্মৃতি নিয়ে অ্যাথলেটিক্স থেকে বিদায় নিচ্ছি, যেগুলো সারাজীবন আমি আগলে রাখব।”

জলপাইগুড়ির প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে এশিয়াডের পোডিয়ামে দেশের তেরঙা উড়িয়েছিলেন স্বপ্না। তাঁর এই আকস্মিক ও করুণ বিদায়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *