এক ক্লিকেই শেষ ২২ লক্ষ শিক্ষার্থীর ১৮ ঘণ্টার পরিশ্রম! নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে সংসদে বিস্ফোরক রাঘব চাড্ডা

রাজ্যসভায় ‘পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬’ পাশ হওয়ার ঠিক আগেই, চাঞ্চল্যকর নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন বিজেপি সাংসদ রাঘব চাড্ডা। এর আগে বিলটি লোকসভাতেও সাফল্যের সঙ্গে পাশ হয়েছিল। বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি দেশের ছাত্রসমাজ ও যুব সম্প্রদায়ের অধিকারের পক্ষে জোর সওয়াল করেন।

রাঘব চাড্ডা বলেন, “ভারতের ছাত্রছাত্রী ও যুবকদের ক্ষেত্রে আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি, সরকার তাঁদের কথা শুনেছে, সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে।”

একটি মাত্র হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় জলে যায় পরিশ্রম
সম্প্রতি দেশজুড়ে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছিল। ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন বহু পরীক্ষার্থী এবং তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি ওঠে। পরবর্তীতে তিনি পদ থেকে সরেও দাঁড়ান।

সংসদের ভেতরে এই প্রসঙ্গ টেনে রাঘব চাড্ডা জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো জটিল সমস্যার স্থায়ী ও কঠোর সমাধান প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, “২২ লক্ষ ছাত্রছাত্রী প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা করে একটানা পড়াশোনা করে মাত্র ৩ ঘণ্টার একটি পরীক্ষার জন্য। কিন্তু একটিমাত্র ক্যামেরা ফোন, একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা বা রাত দু’টোর সময় টেলিগ্রামে ছড়িয়ে পড়া একটি পিডিএফ-এর জাদুতে পুরো প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায় এবং সেই তরুণ প্রজন্মের সমস্ত কঠোর পরিশ্রম মুহূর্তের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায়।”

তিনি আরও তুলনা টেনে বলেন, ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের চিকিৎসা যেমন সাধারণ প্যারাসিটামল বা সাধারণ ওষুধে হয় না, তেমনই প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধের সমাধানও শুধু মুখের কথায় হবে না। এর জন্য প্রয়োজন কঠিন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। এই নতুন বিলের হাত ধরেই দেশে প্রথম সুনির্দিষ্টভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করার মজবুত কাঠামো তৈরি হচ্ছে।

পরীক্ষার্থীদের ক্ষোভ সম্পূর্ণ ন্যায্য
নিট পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে সহানুভূতি প্রকাশ করে রাঘব চাড্ডা বলেন, তাঁদের ক্ষোভ ও কষ্ট সম্পূর্ণ বাস্তব এবং ন্যায্য। তিনি দাবি করেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী কেবল প্রশাসনিক প্রধানের মতো নয়, বরং পরিবারের একজন অভিভাবকের মতো শিক্ষার্থীদের কষ্টের কথা শুনেছেন। এরপরই সরকার তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি একাধিক সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সরকারের নেওয়া উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলি হলো:

দ্রুত বিচার ও চার্জশিট: তদন্ত শুরুর মাত্র ৭৫ দিনের মধ্যে ফাস্ট ট্র্যাক বা দ্রুত বিচার আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক রদবদল: ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-এর ৪৭ জন আধিকারিককে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং শিক্ষা সচিবকে বদলি করা হয়েছে।

নৈতিক দায় স্বীকার: নৈতিক দায় মাথায় নিয়ে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত পুলিশি মামলাও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা: মৃত পরীক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে এবং পরীক্ষার সামগ্রিক নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষা
পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ফেরাতে আগামী দিনে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন রাঘব চাড্ডা। তিনি জানান, ভবিষ্যতে আর প্রথাগত ওএমআর (OMR) শিটে নয়, বরং সম্পূর্ণ কম্পিউটারভিত্তিক পদ্ধতিতে নিট পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।

পাশাপাশি, দেশের পাবলিক পরীক্ষাগুলির স্বচ্ছতা ও শুচিতা চিরতরে বজায় রাখতে আরও সংস্কার সাধনের জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্ক ফোর্সে নন্দন নিলেকানির মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ও ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আগামীর পরীক্ষায় জালিয়াতি পুরোপুরি রুখতে সাহায্য করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *