সুগারের রোগীরাও এবার চুটিয়ে খাবেন আম! লখনউয়ের বিজ্ঞানীদের তৈরি এই দুই ম্যাজিক আমের গুণ জানলে চোখ কপালে উঠবে

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে আম দেখলেই মন খারাপ করা ছাড়া উপায় থাকে না। সুগার বেড়ে যাওয়ার ভয়ে অন্য সবাইকে আম খেতে দেখলে মুখের সামনে থেকে তা সরিয়ে নিতে বাধ্য হন রোগীরা। কিন্তু এবার সেই দিনে ইতি টানতে চলেছেন বিজ্ঞানীরা। ডায়াবেটিস রোগীদের কথা মাথায় রেখে লখনউয়ের সেন্ট্রাল ইন্সটিটিউট ফর সাবট্রপিকাল হর্টিকালচার (CISH)-এর গবেষকেরা এমন দুটি অভিনব জাতের আম উদ্ভাবন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে রক্তে শর্করার মাত্রা কমানোর উপাদান এবং ভরপুর ওষধি গুণ। অথচ খেতে এই আমগুলি সাধারণ সুস্বাদু আমের মতোই লোভনীয় ও সুমিষ্ট!
‘অরুণিকা’—ডায়াবেটিস ও ক্যানসারের যম
গবেষকদের উদ্ভাবিত ‘অরুণিকা’ নামক একটি বিশেষ লাল রঙের আমে এমন কিছু বায়ো-অ্যাকটিভ কম্পাউন্ড বা রাসায়নিক উপাদান রয়েছে, যা মানবদেহের শর্করার পরিমাণ কমাতে দারুণ কার্যকরী। এটি অন্ত্রের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, এই আমে এমন ঔষধি গুণ রয়েছে যা স্তন ক্যানসার এবং কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতেও বিশেষভাবে সাহায্য করে। অনেকেই মনে করতে পারেন যে ওষধি গুণসম্পন্ন ফল হয়তো খেতে তিতকুটে বা তেতো হবে, কিন্তু বাস্তবে তা নয়। প্রচলিত অনেক জনপ্রিয় আমের চেয়েও অপূর্ব দর্শন এই লাল রঙের ‘অরুণিকা’ আম খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু।
মিষ্টি অথচ সুগার বাড়াবে না ‘সাহেব পসন্দ’
গবেষকরা শুধু ‘অরুণিকা’ নয়, পাশাপাশি আরও একটি নতুন জাতের আম তৈরি করেছেন যার নাম দিয়েছেন ‘সাহেব পসন্দ’। নাম শুনেই বোঝা যায়, এটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এই আমটি সাধারণ আমের তুলনায় অনেক বেশি মিষ্টি, যা শুনেই সুগারের রোগীরা হয়তো আঁতকে উঠতে পারেন। তবে আশার কথা হলো, এই আম খেতে অত্যন্ত মিষ্টি হলেও এতে সুগার বা শর্করার মাত্রা বাড়ার কোনো ভয় নেই।
এছাড়াও, এই বিশেষ আমটিতে এমন কিছু পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা মানবদেহকে বাত, হৃদরোগ, মূত্রাশয়ের সমস্যা এবং বিভিন্ন ধরণের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। ফলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই অভূতপূর্ব সাফল্যের সুবাদে এখন থেকে মিষ্টির ভয় বা সুগারের দুশ্চিন্তা ছাড়াই চুটিয়ে আম উপভোগ করতে পারবেন ডায়াবেটিস রোগীরাও।