ট্রাফিক জ্যাম এড়াতে জানুন রুট! শুরু হল কাওয়ার যাত্রা ২০২৬— হরিদ্বার থেকে সুলতানগঞ্জ, কোথায় কী কড়াকড়ি?

আজ বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত কাওয়ার যাত্রা ২০২৬ (Kanwar Yatra 2026)। পবিত্র শ্রাবণ মাসের প্রথম দিন থেকেই উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, হরিয়ানা, রাজস্থান, বিহার এবং ঝাড়খণ্ডের হাইওয়েগুলিতে গেরুয়া বসনে শিবভক্ত ‘কাওয়ারিয়া’দের ঢল নেমেছে।
পবিত্র গঙ্গার জল কাঁধে নিয়ে হেঁটে শিবমন্দিরে জল ঢালার এই ঐতিহাসিক বার্ষিক যাত্রা চলবে আগামী ১১ আগস্ট, শ্রাবণ শিবরাত্রি পর্যন্ত। প্রশাসনের আশঙ্কা, আগামী ৭ থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত ভিড় চরম আকার ধারণ করবে এবং এই কদিন প্রধান রুটগুলিতে ধীর গতিতে চলবে যান চলাচল।
কাওয়ার যাত্রা ২০২৬: গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও সূচি
৩০ জুলাই: কাওয়ার যাত্রার শুভ সূচনা (শ্রাবণের প্রথম দিন)।
৭ থেকে ১১ আগস্ট: যাত্রার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সর্বাধিক ভিড়ের সময় (Peak Travel Period)।
১১ আগস্ট: শ্রাবণ শিবরাত্রি এবং মূল ‘জলঅভিষেক’ ও সমাপ্তির দিন।
১২ আগস্টের পর: পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করবে, যদিও কিছু এলাকায় স্থানীয় ডাইভারশন বজায় থাকতে পারে।
কাওয়ার যাত্রার রীতিনীতি ও প্রধান রুটগুলি
গঙ্গার পবিত্র জল ছোট পাত্র বা ‘কলশ’-এ ভরে বাঁশের তৈরি ‘কাওয়ার’-এর দুই প্রান্তে ঝুলিয়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছান ভক্তরা। বেশিরভাগ ভক্তই বৃষ্টি ও গরমের তোয়াক্কা না করে খালি পায়ে বা সাধারণ চটি পরে এই কঠিন যাত্রা সম্পন্ন করেন।
উত্তরাখণ্ড ও দিল্লি-এনসিআর: প্রধান সূচনার কেন্দ্র হরিদ্বারের ‘হর কি পৌড়ি’ থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্ত জল তুলে দিল্লি, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা ও রাজস্থানের উদ্দেশে রওনা হন। বিশেষ করে দিল্লি-হরিদ্বার করিডোর, মীরাট, মুজাফ্ফরনগর, রুরকি এবং গাজিয়াবাদ এলাকায় দীর্ঘ যানজট ও ডাইভারশনের মুখোমুখি হতে পারেন যাত্রীরা। এছাড়া উত্তরাখণ্ডের গঙ্গোত্রী ও গোমুখের পাহাড়ি পথগুলিতে ভূমিধস ও আবহাওয়া পরিবর্তনের ঝুঁকি মাথায় রেখে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।
পূর্ব ভারত: বিহারের সুলতানগঞ্জ থেকে ঝাড়খণ্ডের দেওঘর (বৈদ্যনাথ ধাম) পর্যন্ত প্রায় ১০৫ কিলোমিটারের এই রুটটি পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ত কাওয়ার রুট।
ট্রাফিক রেস্ট্রিকশন ও জরুরি পরামর্শ
যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য প্রশাসন বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে:
যানবাহন নিয়ন্ত্রণ: ব্যস্ত রাস্তাগুলির একাংশ কেবল কাওয়ারিয়াদের পদচারণার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। দিল্লি-মীরাট করিডোর এবং গঙ্গা ক্যানেল রোডে ভারী বাণিজ্যিক গাড়ি চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা রুট পরিবর্তন করা হয়েছে।
পরামর্শ: যাঁদের হরিদ্বার, ঋষিকেশ বা দেরাদুন ভ্রমণের পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁরা এই কদিন অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও ছুটির দিনগুলিতে সড়কপথের বদলে ট্রেন বেছে নেওয়া অনেক বেশি সুবিধাজনক হবে। স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশিকা ও অ্যাডভাইজরি দেখে তবেই যাত্রা করুন।
নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি
শ্রাবণ মাসজুড়ে প্রধান রুট, মন্দির এবং নদীঘাটগুলিতে পুলিশি নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণে ড্রোন, সিসিটিভি ক্যামেরা ও মোবাইল পেট্রোলিং টিম কাজ করছে। পাশাপাশি, ভক্তদের সেবায় একাধিক স্থানে হেল্প ক্যাম্প, চিকিৎসা শিবির এবং বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। হাইটেনশন তার বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে বিশাল আকারের কাওয়ার ও ডিজে-শব্দসংকলন যানবাহনের ওপর কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে।